দেশের বিভিন্ন শিল্প ও এজেন্সিতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) বাংলাদেশের মূলধন বাজারে টাকা ডিনমিনেটেড বাংলা বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।
কর্মকর্তারা জানান, এই বন্ড ছাড়ার জন্য গত শুক্রবার বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুমোদন চেয়েছে আইএফসি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একউর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আইএফসি এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো, স্থানীয় ব্যবসাগুলোতে বিনিয়োগ করার জন্য দেশীয় বাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করা।
তিনি আরো বলেন, আইএফসির প্রস্তাব নিয়ে তারা অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মতো সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে মতামত চেয়েছে।
তিনি জানান, তাদের মতামত পাওয়ার পর প্রস্তাবটি ভালোভাবে বিবেচনা করে অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আইএফসির এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দেশীয় শিল্প ও উদ্যোগগুলোকে মূলধনী সহায়তা যোগান দেওয়ার উদ্দেশ্যে মূলধন বাজারে পুঁজি সংগ্রহ করতে আইএফসি নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'বিএসইসির মাধ্যমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বাংলা বন্ড ছাড়বে।
তিনি এও উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত বন্ডের পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি, এটা স্থানীয় ব্যবসায় ও শিল্পের মূলধনী চাহিদার উপর নির্ভরশীল।
আইএফসি কর্মকর্তা জানান, বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ আমরা ফিরিয়ে নেব না। ওই অর্থের পুরোটুকুই আমরা বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি শিল্পের প্রকল্পে বিনিয়োগ করব।
আইএফসি বর্তমানে এর আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বিভিন্ন কোম্পানিকে ঋণ দিয়ে থাকে। এবার ওয়াশিংটন-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি বর্ধিত তহবিল নিশ্চিত করতে ও মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ঋণ প্রদান করবে।
আইএফসি কর্মকর্তা এও বলেন, স্থানীয় কোম্পানিগুলোর চাহিদার উপর ভিত্তি করে তাদের ঋণ দিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তহবিল সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশে আইএফসির উর্ধ্বতন কান্ট্রি অফিসার নুজহাত আনোয়ারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ব্যবসায় সম্প্রসারণ, নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও কারখানা নির্মাণের জন্য তহবিলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাংলা বন্ডের মাধ্যমে আইএফসি সেই তহবিল যোগান দিতে পারবে।
এর আগে আইএফসি প্রথমবারের মতো লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ৮০ কোটি টাকার (৯ কোটি ৫০ লাখ আমেরিকান ডলার) বাংলা বন্ড ছেড়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে তহবিল পরিচালন ও বিতরণ সম্প্রসারণে সহায়তা করা।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্যাংক অব আমেরিকা মেরিল লিঞ্চের চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্ত তিন বছর মেয়াদী সেই বন্ড উঠতি বাজার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সম্পদ ব্যবস্থাপকদের তত্ত্বাবধানে দেয়া হয়েছিল।
সেই বন্ড থেকে প্রাপ্ত মুনাফা বাংলাদেশের বেসরকারি এন্টারপ্রাইজ প্রাণ গ্রুপে বিনিয়োগ করা হবে, যাতে তারা তাদের প্রক্রিয়াকরণ ও পল্লী বিতরণ ব্যবস্থা আরো মজবুত করতে পারে।
মুডিস ইনভেস্টরস সার্ভিস ও স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস অনুযায়ী, আইএফসি বন্ডগুলোর মান ট্রিপল-রেটেড।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কৃষি, উৎপাদন, জলবায়ু-সংক্রান্ত প্রকল্প এবং ক্ষুদ্র অর্থায়নের প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূলধন যোগানের উদ্দেশ্যে আইএফসি বন্ডের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, নারী-পরিচালিত ব্যবসায় ও কোম্পানিগুলোকে অর্থায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে আইএফসি-র।
২০০০ এর দশকের শুরুতে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ প্রদান কার্যক্রম চালু হওয়ার পর আইএফসি আন্তর্জাতিকভাবে আমেরিকান ডলারে ১৬০০ কোটিরও বেশি পরিমাণ অর্থ ঋণ দিয়েছে। এখন পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান ভারতীয় রূপি, চীনা রেনমিনবি, ব্রাজিলিয়ান রিয়েল, সাউথ আফ্রিকান রেন্ড, তুর্কির লিরা, শ্রীলংকান রূপি, কম্বোডিয়ান রিয়েল, বর্মী কিয়াট এবং রাশিয়ান রুবলসহ পঞ্চাশটিরও বেশি মুদ্রায় তহবিল সংগ্রহ করেছে।