Loading...

বরখাস্ত পুলিশ সদস্য জাল নোট চক্রে, সঙ্গে ব্যাংককর্মীও

| Updated: July 29, 2022 20:02:24


পুলিশের চাকরিচ্যুত এএসআই হুমায়ুন কবীর (মাঝে) জাল নোট চক্রে বলে জানিয়েছে ডিবি।ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম পুলিশের চাকরিচ্যুত এএসআই হুমায়ুন কবীর (মাঝে) জাল নোট চক্রে বলে জানিয়েছে ডিবি।ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ব্যাংকে জাল টাকা ঢুকছে এমন তথ্য পাওয়ার পর ব্যাংকে লেনদেনে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন অর রশিদ।

বৃহস্পতিবার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন বলেন, “চাকরিচ্যুত এক পুলিশ সদস্য বর্তমানে জাল টাকার কারবারি। গ্রেপ্তারের পর আমাদের জানিয়েছে, অসাধু কিছু কর্মকর্তার যোগসাজসে সে ব্যাংকে জাল টাকা ঢুকিয়ে থাকে।”

পুলিশের চাকরিচ্যুত এএসআই হুমায়ুন কবীরকে (৪৮) গত বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর চাঁদ উদ্যান হাউজিং এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

তার কাছ থেকে এক হাজার টাকার নোটের ১৬ লাখ টাকার সমপরিমান জাল নোট, একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, একটি লেমিনেশন মেশিন, একটি পেস্টিং গামের কৌটা, তিনটি ডাইস, দুই বান্ডেল ফয়েল পেপার, দুই প্যাকেট টাকা তৈরির সাদা কাগজ ও দুইটি মোবাইল জব্দ করা হয়।

হারুন বলেন, “ঈদ ও অন্যান্য উৎসবেকেন্দ্রিক ব্যাংকে যখন অতিরিক্ত ভিড় হয়, তখন হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে জাল টাকার কারবারিরা তৎপর হয়। তারা ভিড়ের সুযোগে ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় পরিচিতজনের একাউন্টে কৌশলে টাকা জমা দিয়ে থাকে।”

কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী এলাকায় চক্রটি বেশি সক্রিয় বলে জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “হুমায়ুন কবীরের বেশ কিছু এজেন্ট আছে। তাদের নির্দিষ্ট কমিশনের ভিত্তিতে জাল টাকা সরবরাহ করে আর তারাই ব্যাংক ছাড়াও বিভিন্ন মার্কেটে, হাটে এসব জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়।”

তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার হুমায়ুনের সঙ্গে কোন কোন ব্যাংকে কোন কোন কর্মকর্তা জড়িত সে ব্যাপারে তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করব।

“এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অবৈধভাবে কেউ বড়লোক হতে চাইলে তাকেও আমরা আইনের আওতায় আনব।”

জাল টাকা দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে এমন তথ্যও রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। হুমায়ুন কবীরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সেপ্টেম্বর মাসের দূর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে তারা ৬০ লাখ টাকার সমপরিমান জাল নোট নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করে এবং সে অনুযায়ী কাজ করছিলেন বলে গ্রেপ্তার হুমায়ুন গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন।

এরআগেও হুমায়ুন জাল নোট বানিয়ে বাজারে ছাড়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জানিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হারুন বলেন, “মোহাম্মদপুরের যে বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটি ভাড়া বাসা। এই বাসায় সে জাল টাকা ছাপার কারখানা বানিয়েছিল।

হুমায়ুন কবিরের সহযোগী হিসাবে ইমাম হোসেন (৩০), মো. আলাউদ্দিন (৩৫), মো. সাইফুল (৩০), মো. মজিবর (৩২) ও আলাউদ্দিনের (৪২) নাম পেয়েছে ডিবি। তাদেরও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানান ডিবি কর্মকর্তারা।

Share if you like

Filter By Topic