সব নদীর পানি বাড়তে থাকায় দেশে বন্যার বিস্তৃতি বাড়ছে। অন্যদিকে সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে বন্যার্তদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট অঞ্চল গত কয়েকদিন ধরেই বন্যা কবলিত। ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির পর বন্যার কবলে পড়ে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
এরপর ব্রহ্মপুত্রে পানি বাড়ার মধ্যে সোমবার রংপুর সীমান্তের ওপারে শিলিগুড়িতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির খবর এসেছে।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, সোমবার ১৫০ মিলি মিটার বৃষ্টি হয়েছে শিলিগুড়িতে। এমন বৃষ্টি দীর্ঘদিন হয়নি। বৃষ্টির জেরে শিলিগুড়ির মহানন্দা নদীতে জলোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। ডুবেছে বিভিন্ন এলাকা। কোথাও কোথাও কোমর সমান পানি উঠেছে।
বাংলাদেশের বন্যা পুনর্বাসন ও সতর্কতা কেন্দ্র আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকাসহ দেশের সব নদীতে পানি বাড়ার সঙ্কেত দিয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ে আসাম, হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত কমতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র নদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের চারটি পয়েন্টেই বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে। যমুনা নদীও পাঁচটি পয়েন্টে রয়েছে বিপৎসীমার উপরে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধায় ধরলা, ঘাঘট নদীও বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে চলে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে পূর্বাভাসে। যার অর্থ হবে রংপুর অঞ্চলে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল জেলায় বন্যার অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
পদ্মা নদীও সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে উঠে গেছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতি থাকলেও হবিগঞ্জে পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে। যার অর্থ ওই এলাকায়ও বন্যা কবলিত এলাকা বাড়বে।
সুরমা-কুশিয়ারা এখনও বিপৎসীমার উপর দিয়েই বইছে।
ভারতের ত্রিপুরায় ভারী বর্ষণে কুমিল্লায় গোমতী নদীও বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে। সেখানে নদী তীরের অনেক এলাকা ডুবেছে। মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ফেনীতে তলিয়েছে নতুন এলাকা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের নদীগুলোর পানিও বাড়তে পারে বলে আভাস মিলেছে। অতি বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারে চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।