বঙ্গবন্ধুর নামে বিদেশে ৫ স্কুল, ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ


FE Team | Published: September 11, 2021 21:37:34


বঙ্গবন্ধুর নামে বিদেশে ৫ স্কুল, ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচটি দেশে তার নামে স্কুল চালানোর জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের সন্তানদের পড়াশোনার সুবিধায় গ্রিসের এথেন্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম এবং বাহরাইনে এসব স্কুলের কাজ চলছে।

সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে এই খরচের হিসাব দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেন্টেনিয়াল স্কুল নামে এককভাবে কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্ট দেশের কোনো নেতার সাথে যৌথ নামে প্রতিষ্ঠার এই কার্যক্রম চলমান বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এ কাজে ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ড থেকে ১০২ কোটি দুই লাখ ৬৭ হাজার ৫৫৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গ্রিসের স্কুলের জন্য গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ২৬ কোটি ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৫৮ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়।

আমিরাতের রাস-আল-খাইমাহ শহরে বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুলের জন্য গত অর্থবছরে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দূতাবাসের ২০ কোটি টাকা চাহিদার বিপরীতে এ বছর আরও এক কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ওই স্কুলের নির্মিতব্য নতুন ভবন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে করতে হবে বলে শর্ত দেওয়া হয়।

রাস-আল-খাইমাহ শহরে বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুল।রাস-আল-খাইমাহ শহরে বাংলাদেশ ইংলিশ প্রাইভেট স্কুল।

বাহরাইনের বাংলাদেশি স্কুলে গত বছর ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়; কার্যক্রম চলমান।

সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনে ১৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্কুল স্থাপনের দূতাবাস জমি নির্বাচন করেছে।

সৌদি আরবের দাম্মামে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্থাপনের জন্য জমি কেনা ও ভবন নির্মাণ বাবদ ২০১৮ সালের ১৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রাক্কলন অনুমোদন দেওয়া হয়।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়ন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সব স্কুল যে পুরোপুরি আমাদের টাকায় করছি, তেমন না। কিছু স্কুল কমিউনিটি চালায়, কোনো রকমে চলত। সেগুলো আরেকটু বড় পরিসরে বঙ্গবন্ধুর নামে যাতে চলতে পারে, আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে চলতে পারে, সেজন্য আমরা এই টাকা ব্যয় করছি।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসী কর্মীদের টাকায় বিদেশের মাটিতে এসব স্কুলের সুবিধা যাতে প্রকৃত অর্থে প্রবাসী শ্রমিকরা পায় সেদিকে নজর দিতে হবে।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরীফুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কল্যাণ বোর্ডের এই টাকাগুলো দেয় আমাদের প্রবাসী শ্রমিকরা। এই টাকা তাদের কল্যাণে ব্যয় করা নৈতিক দায়িত্ব। বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, দেশের বাইরে বা ভেতরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অন্য অনেক কাজে এই টাকার যথাযথ ব্যবহার হয়নি।

আমি মনে করি, প্রবাসী শ্রমিকদের সন্তানরা যেহেতু বাইরে থাকেন না সেভাবে, কাজেই যদি, শিক্ষার জন্য ব্যয় করা হয়, তাহলে তাদের জন্য দেশে কিছু একটা করা যেতে পারে। আমি সবসময় মনে করি, প্রবাসী কর্মীদের সন্তানরা যাতে সবসময় প্রাধান্য পায়। টাকার যেন অপব্যবহার না হয়।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক হামিদুর বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে হলেও এ ধরনের স্কুল খুব বেশি করার প্রয়োজন হবে না।

কারণ, আমাদের প্রবাসী কর্মীদের পরিবার দেশেই থাকেন। তারা যে অনেক টাকা আয় করেন বিষয়টা তেমনও নয়। তাদের সন্তান-সন্ততিরা দেশেই পড়াশোনা করেন। তাদের আমরা বৃত্তি দেই। তাদের কল্যাণে কার্যক্রম চলছে।

Share if you like