বগুড়ার প্রায় ২০টি গ্রামে গড়ে উঠা ইমিটেশনের গহনা তৈরীর কারখানাগুলো থেকে মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকার গহনা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
জেলা শহরের উপকন্ঠে ধরমপুর ও বারপুরে প্রায় ৫০ বছর আগে গড়ে উঠা এই কারখানাগুলো থেকে প্রতিদিন ১০ লাখ টাকার গহনা যায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে, খবর বাসসের।
করোনার শুরুতে মুখ থুবড়ে পড়লেও আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এই কুটির শিল্প পল্লী। যেখানে প্রায় ২০ হাজার নারী-পুরুষ ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইমিটেশনের গহনা তৈরীর কাজ করে তাদের জীবন মান পাল্টে গেছে।
সকালে গহনার বানানোর ছোট-ছোট হাতুড়ি ও গ্যাস পটের শব্দে গ্রামের মানুষের ঘুম ভেঙ্গে যায়। আগে সোনার গহনা তৈরীর জন্য কয়লার আগুনে পিতলের নল দিয়ে গহনার জোড়া লাগানো হতো। এখন প্রযুক্তি পাল্টে গেছে। তারা গ্যাসের পটে চাপ দিয়ে ইমিটেশনের গহনা জোড়া লাগায়।
তারা একটি মোমের ছাঁচে জোড়া দিয়ে তৈরী করেন নানা ডিজাইনের গহনা। এ গহনা তৈরী হয় তামা, পিতল ও দস্তার সংমিশ্রণে। অপূর্ব হতের কারুকাজে তৈরী হচ্ছে চোখ ধাঁধানো গহনা। এগুলো সোনা নাকি অন্য কোন মূল্যবান পদার্থের তা পরীক্ষা না করে ধরার কোন উপায় নেই।
বিদ্যুৎ মিয়া আগে গহনা তৈরীর কারখানায় কাজ করেতো। এখন তিনি নিজেই কারখানার মালিক। তিনি জানান, এই ২০টি গ্রামে বেকার যুবকের সংখ্যা কম।
ধরমপুর বাজার দোকান মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন জানান, সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ইমিটেশনের গহনার চাহিদা বেড়েছে। এখানকার অনেকে যারা রিক্সা চালাতো, দিন মজুর ছিল, বা অন্যান্য পেশা নিয়োজিত ছিল। তাদের অধিকাংশই প্রথমে ইমিটেশনের গহনা কারখানার শ্রমিক ছিল। এরপর তার নিজেরাই এখন এক একজন মালিক বনে গেছে।
ইমিটেশনের গহনা তৈরীর কাঁচা মাল আসে ভারত থেকে। কারন সেখানে তামা, ব্রোঞ্জ, দস্তা পিতলের খনি আছে। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে তেমন বেকার নেই । তিনি আরো জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার গহনা বেচা কেনা হয়ে থাকে। মাসে ৩ কোটির অধিক ইমিটেশনের গহনা বগুড়ার ধরমপুর ও বারপুর থেকে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
বিসিক সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা পেলে তারা এই গহনা বিদেশে রফতানি করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন।
ওই গ্রামের মানুষ গহনা তৈরী কাজে ব্যাস্ত থাকে। এমন কোন ডিজাইনের গহনা নেই যে তারা তৈরী করতে পারেন না। তাদের হাত দক্ষ ও সুনিপুঁণ। তাদের একজন সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি মিথিলা এ্যানটিক কারকানার মালিক। প্রথমে সে দুইমাস একটি কারখানায় কাজ করেছেন। এখন নিজেই কারখানা দিয়েছেন। প্রতিমাসে আড়াই লাখ টাকার গহনা সরবরাহ করে থাকেন।
আরেক গহনা শিল্পী জানান, তিনিসহ তার পরিবারের ৪ জন সদস্য এ কাজ করছেন। আগে তাদের অনেক অভাব অনটনের মধ্যে দিন যাপন করতে হয়েছে। এখন এই কাজ করে তাদের পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।
ধরমপুর ও বারপুরের ক্ষুদ ও কুটির শিল্পকে সহায়তার প্রশ্নের সহায়তা প্রসঙ্গে বগুড়া বিসিকের ডিজিএম জাহেদুল ইসলাম জানান, তাদের তরফ থেকে সহায়তার জন্য কেউ আসেনি। এলে নিশ্চয়ই সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনে বলেন, এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। অবশ্যই তাদের সহায়তায় বিসিক এগিয়ে আসবে।