ব্রেক্সিট পরবর্তী ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্য নিয়ে প্যারিস সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ফরাসি সরকারের আমন্ত্রণে ৯ নভেম্বর থেকে চার দিনের সফরে দেশটির রাজধানী প্যারিসে যাবেন তিনি। এর আগে সরকারপ্রধান স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ২৬তম বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনে (কপ ২৬) অংশগ্রহণ এবং লন্ডন সফর করবেন, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ইউরোপের তিন দেশ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
ফ্রান্স সফরের তাৎপর্য বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা সবগুলো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক জোরদার করছি। প্রত্যেক দেশ বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও সম্মান দেখিয়েছে।
“সম্মান দেখিয়েছে এজন্য যে, গত ১২ বছরে আমাদের অর্জন অভাবনীয়। ওদের সবার আমাদের ওপর আস্থা অনেক বেড়েছে। আমরা সম্পর্কগুলোকে আরও মজবুত করতে চাই। আরও সুসম্পর্ক করতে চাই।”
৯ থেকে ১৩ নভেম্বর ফ্রান্সে সরকারি সফরকালে দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ইউনেস্কোর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
সফরকালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাসটেক্স এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা।
মোমেন বলেন, “সফরকালে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাবার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”
ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকালে বিভিন্ন বিষয়ে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও ’লেটার অব ইনটেন্ট’ সই হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, “এখানে একটি বিশেষ দিক থাকতে পারে হয়ত, সেটি হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স, ইইউতে কিছু পরিবর্তনের পরে বা নতুন করে এ জোট গঠিত হওয়ার পরে, ফ্রান্সে এটি প্রথম সফর।”
সফরকালে ফ্রান্সের অন্যান্য মন্ত্রী ও পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের প্রস্তাবও রয়েছে।
ফ্রান্সের বেশ কিছু কোম্পানির প্রধানের পাশাপাশি ফরাসি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষস্থানীয় সংস্থা এমইডিইএফ এর একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
১১ নভেম্বর ইউনেস্কো সদরদপ্তরে ’ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন দি ফিল্ড অব ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।
একই দিনে সাবেক ফরাসি বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্যাসকেল ল্যামির আমন্ত্রণে প্যারিস পিস ফোরামের উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশনে তিনি যোগ দেবেন।
আগামী ১২ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে একটি উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও রয়েছে তার।
ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অদ্রে আজুলের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও হবে প্রধানমন্ত্রীর। ফ্রান্সে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানেও তিনি যোগ দেবেন।
শাহরিয়ার আলম বলেন, “প্যারিসে এনজেগমেন্টটা খুবই এক্সটেনসিভ। সেখানে তিনটি স্থানে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। এবং এ সফরে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে।
“ফ্রান্সের বেশ কিছু কোম্পানি যারা বাংলাদেশ বিনিয়োগ করতে, তাদের পণ্য বিক্রি করতে আগ্রহী এবং আমরাও সেখানে রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী।”
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ফ্রান্সে আমরা আগে যখন গিয়েছিলাম, সেখানে অনেক আকর্ষণ দেখা গিয়েছিল। ফ্রান্সের কয়েকটা কোম্পানি, তারা দুনিয়ার সব জায়গায় বিনিয়োগ করে। এটা হবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
“ফ্রান্সে এখনও সরাসরি ফ্লাইট নাই। এভিয়েশনের সঙ্গে আলাপ করব, আশা করি আমরা পাব। আমাদের যে কমিউনিটি, তারাও অনেক দিন ধরে প্যারিসে সরাসরি ফ্লাইটের জন্য চেষ্টা করছে।”
