মির্জা ফখরুল ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেনের বক্তব্যকে তাৎপর্যময় বলে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার বিকালে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। ফিলিস্তিন সংগ্রাম ও তাদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করতে এই সংবাদ সম্মেলন আহবান করে বিএনপি, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই দুই রাষ্ট্রই একমাত্র সমাধান। সংঘাতের মূল কেন্দ্র জেরুজালেম নগরে আন্তসাম্প্রদায়িক লড়াই বন্ধ করার প্রতি জো-বাইডেনের উদাত্ত আহবান সংকট সমাধানে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মার্কিন গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকদের দৃঢ় সমর্থনের প্রতি সন্মান প্রদর্শনের সুস্পষ্ট বর্হিপ্রকাশ।
এমন অবস্থান গ্রহণের জন্য তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, জাতিসংঘের প্রস্তাব এবং অসলো চুক্তির আলোকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা বাস্তবায়নের পথ সুগম করাই হচ্ছে প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সাম্প্রতিক হামলা-হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ায় আনার উদ্যোগসহ দুই রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন জাতিসংঘের নেতৃত্বে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ওআইসি ও জোট নিরপেক্ষ সম্মেলন-ন্যামসহ মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।
তিনি পরবর্তীতে দলের চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার পরিচালনার সময় এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সেই একই নীতি ও অবস্থান অব্যাহত রাখার কথাও তুলে ধরেন।
ওষুধ পাঠাচ্ছে বিএনপি
বিএনপি মহাসচিব জানান, ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে যুদ্ধাহতদের জন্য ওষুধ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার দল।
এই সময় সরকারের কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের তরফ থেকে প্রথমেই যে উদ্যোগটা গ্রহণ করা উচিত ছিল, যেটা হচ্ছে সরকার প্রধানের উদ্যোগ। এখন আপনারা বলেন যে, সরকার প্রধান যিনি, তিনি নাকি বিশ্বনেতা। তিনি তো উদ্যোগ নিতে পারতেন- সমস্ত মুসলিম দেশগুলোকে আহবান জানিয়ে যে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়াতে।
তিনি (সরকার প্রধান) তো সরকারের পক্ষে অনেক বড় রকমের সহযোগিতা পাঠাতে পারতেন, সাহায্য পাঠাতে পারতেন ফিলিস্তিনিদের কাছে।
পাসপোর্ট থেকে ইসরায়েল প্রসঙ্গ বাদ দেওয়া
পাসপোর্ট থেকে ইসরায়েল প্রসঙ্গ বাদ দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরবতাকে সরকারের নীতিহীন অবস্থান বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি বিমানের মুহুর্মুহ হামলা ও ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপে যখন ফিলিস্তিনের গাজা নগরী মৃত্যুপুরীতে পরিণত হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ইসরায়েল ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। যা হতাশ করেছে গোটা বিশ্ববিবেককে।
আবার ২৩ মে ফিলিস্তিন বিরোধী ওই সিদ্ধান্তে ইসরায়েলে সরকারের অভিনন্দন-টুইটের প্রেক্ষিতে তা অস্বীকার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সরকারের পজিশন ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরবতা গোটা বিষয়ে সরকারের নীতিহীন অবস্থান বেরিয়ে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রকাশনা সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন নুস উপস্থিত ছিলেন।