১৯৪৯ সালে মাও সে তুং মস্কো সফর করেন। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটির সঙ্গে কম্যুনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পর্ক গাঢ় করার সদিচ্ছাই ছিল এ সফরের প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু তাঁর সে ইচ্ছাতে ঠাণ্ডা পানি ঢেলে দেন জোসেফ স্ট্যালিন। শীর্ষ বৈঠকের আগে বিনা কারণে মাওকে অবমাননাকর অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য করেন স্ট্যালিন।
পরবর্তীতে বন্ধুত্ব চুক্তি সই করেন স্ট্যালিন এবং মাও। কিন্তু মাওয়ের ধারণা জন্মে, তাঁকে গরিব দেশের নিছক খড়-বিচালি হিসেবেই বিবেচনায় নিয়েছেন স্ট্যালিন। ১৯৬০-এর দশকে এসে ছবি পাল্টে যায়। কম্যুনিস্ট দুনিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যেই সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ‘কাইজ্জা-ফ্যাসাদে’ নামে মাওয়ের চীন। এমনকি দীর্ঘ সীমান্তের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল নিয়ে ১৯৬৯ সালে দেশ দুইটির মধ্যে লড়াইও হয়।
আর এর মধ্য দিয়ে নিকসনের চীন সফরের সুযোগ খুলে যায়। ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চীন সফরে যান তিনি। সোভিয়েত কক্ষপথ থেকে চীনকে ছুটিয়ে আনার কূটনৈতিক লক্ষ্য নিয়েই এ সফর করেন তিনি।
নিকসনের চীন সফরের মেয়াদ ছিল আট দিন। স্বল্প মেয়াদে এই সফরকে বিবেচনা করা হয় দ্ব্যর্থহীন সাফল্য হিসেবে। সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর গুপ্তচরবৃত্তি করতে আমেরিকাকে সহায়তা করতে সম্মত হন চীনা নেতারা। এদিকে, আমেরিকায় পুনরায় নির্বাচনে জয়ী হন নিকসন । বিশ্ব অর্থনীতির অঙ্গনে চীনকে চূড়ান্ত একীকরণের মঞ্চও তৈরি হয়।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির অবিসংবাদিত নেতা মাও সেতুং (বামে) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিকসন (ডানে) ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বেইজিং-য়ে করমর্দন করছেন- এপি ছবি
নিকসনের সেই চীন সফরের অর্ধশত বার্ষিকী উদযাপন করতে গিয়ে কিছু মার্কিনকর্তা এবং পররাষ্ট্র নীতি বিশ্লেষককে দ্বিতীয়বার ভাবতে হচ্ছে। তাঁদের ভাবতে হচ্ছে, সত্যিই কী বেইজিংয়ের সঙ্গে অংশিদারিত্বের কাজ করে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে শ্যামচাচা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র! এমনকি নিকসনও যদি আজ তাঁর সেই ঐতিহাসিক সফর নিয়ে কথা বলতে যান তবে হয়ত ব্যক্ত করবেন মিশ্র অনুভূতি। সম্ভবত কিছুটা অনুশোচনাও। এ কথা সত্য যে, রাশিয়া ছিল আমেরিকার জন্য সামরিক হুমকি। এ সত্ত্বেও দেশটি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। বিশাল এ দেশটির এখনকার অর্থনীতির পরিমাণ ইতালির সমান।জনসংখ্যা হলো চীনের দশ ভাগের এক ভাগ।
চীন মাত্র এক শতাব্দীর মধ্যেই দুনিয়ার পয়লা নম্বরের শক্তিতে পরিণত হয়েছে। দেশটি এখন অর্থনৈতিক এবং সামরিক উভয় দিক দিয়েই পুরো সাবালাক হয়ে উঠেছে। অর্জন করেছে মার্কিন আধিপত্যের সাথে টক্কর দেওয়ার সক্ষমতা।
মার্কিন কোনো কোনো নীতিনির্ধারক মনে করতেন যে, আমেরিকার সহায়তা করুক বা না করুক চীন শেষ পর্যন্ত গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াবে। এ দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নিলে, চীনকে শত্রু শক্তি বানানোর বদলে বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে স্বাগত জানানোই হবে অর্থপূর্ণ। আজকের দিনে আন্তর্জাতিক এবং মার্কিন অর্থনীতির ক্ষেত্রে চীনের রয়েছে বিশাল হিস্যা। নিকসন এগুলো কল্পনা করতেও পারেননি।
চীনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ এবং সুবিধার কথা বছরের পর বছর ধরে বলে গেছেন মার্কিন নীতি নির্ধারক মহল। এ নিয়ে কথার ফুলঝুরি ছড়িয়েছেন তাঁরা। কিন্তু গাঁটছড়া বাধার ফলে যে সব অসুবিধা বা ঝুঁকি রয়েছে তা নিয়ে টুঁ শব্দটিও করেননি। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে জড়িয়ে পড়লে চীনে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটবে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন। প্রবাদের কাজির গরুই মতোই কার্যত তা কাগজ-কলমেই সীমিত রইল। বাস্তব রূপ দেখা গেল না। চীনের সফলতাকে পুঁজি করে অনেক মার্কিন ব্যবসায়ীর আঙ্গুল ফুল কলাগাছ হলো। মার্কিন ভোক্তারা পেল চীনের সস্তা পণ্য। পাশাপাশি কারখানা আমেরিকার থেকে চীনে চলে যাওয়ায় ক্ষতিতে পড়ল মার্কিন শ্রমিকদের একটি অংশ। গত দুই দশক ধরে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সর্বশক্তি এবং সর্ব মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছিল আমেরিকা। কম্যুনিস্ট একটা দেশের ওপর কিভাবে অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে তা নিয়ে ভাবনার অবকাশও ছিল না মার্কিন নীতি নির্ধারকদের। মার্কিন নীতির সঙ্গে এটি মোটেও খাপ খায় না।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজ দৃষ্টিভঙ্গি রাখঢাকের ধার ধারেন না। তিনি মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন এক পরাশক্তি যা এখন বিশ্বে ‘পড়া-শক্তি’ বা ‘ঝরে পড়া-শক্তি’র সারিতে স্থান করে নিতে চলেছে। এই ‘পড়া-শক্তি’ই বিশ্বে চীনের উত্থান ঠেকাতে, দুনিয়াতে চীনের উপযুক্ত স্থান করে নেওয়ার তৎপরতা প্রাণপণে রুখে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেই মনে করেন শি। চীনা পণ্যের কাঁধে শুল্কের জোয়াল চাপিয়ে দেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে চীনের সঙ্গে আশাবাদী অংশিদারিত্বের একটি যুগের অবসানও ঘটান। কিন্তু ট্রাম্প বিশ্বরাজনীতি থেকে আমেরিকাকে বিচ্ছিন্ন করে নেন। তাঁর এই বিচ্ছিন্নতাবাদ চীনের উপকারই করে। আমেরিকা পিছিয়ে আসায় বিশ্বব্যাপী যে শূন্যতা সৃষ্টি হয় তা পূরণে সচেষ্ট হয় চীন। তবে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রকে প্রস্ফুটিত এবং স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানকে নিয়ে নতুনভাবে জোট বাধেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন । এতে বড় ধরণের এক সমস্যার মুখোমুখি হন শি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ একত্রিত হয়ে যদি অর্থনৈতিক জোট গঠন করতে পারে তাহলে তা চীনের অর্থনীতির আকারের থেকে প্রায় দ্বিগুণ হবে। কিন্তু এ তৎপরতাকে “মুক্ত বিশ্ব” এবং স্বৈরাচারের মধ্যে লড়াই হিসাবে রূপান্তর করেছে বাইডেন প্রশাসন। এতে রাশিয়া এবং চীনকে আরো কাছাকাছি ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ একে “স্বৈরাচারের নতুন অক্ষ” বলে চিহ্নিত করছে। এবারে, ছোট ভাই হিসেবে বেইজিংয়ের কাছে সমর্থন প্রার্থনা করছে মস্কো। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ফলপ্রসূ ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে এটি।
প্রকাশিতব্য বই “শি জিনপিং: দ্যা মোস্ট পাওয়ার ফুল ম্যান ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড” এর সহ-লেখক আদ্রিয়ান গেইজেস বলেন, “নিকসন যা করেছেন পশ্চিম এখন ঠিক তাঁর উল্টা কাজটি করছে।” তিনি আরো বলেন, “রাশিয়া এবং চীন স্বাভাবিক কোনো অংশীদার নয় বরং অভিন্ন শত্রু - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিম ইউরোপের কারণে তাঁরা অংশীদার বনেছে।”
ইউক্রেন নিয়ে পশ্চিমাদের সাথে টানাপড়েনে রাশিয়ার পক্ষ হয়ে চীন কতদূর যাবে তা এখনোই বলা কঠিন। আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটমুক্ত বিশ্বের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে ওকালতি করছেন চীনা নেতারা। অন্যান্য দেশের সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে খুবই সতর্ক তারা এবং হিসাব কষে পা ফেলছে।
কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং প্রেসিডেন্ট শি সম্প্রতি অসাধারণ এক যৌথ বিবৃতি দেন। বেইজিংয়ে শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী রাতের কয়েক ঘণ্টা আগে দুই নেতা চীনের রাজধানী থেকে এই বিবৃতি প্রকাশ করার ধকলের মধ্য দিয়ে যান। এতে দুই দেশের জন্য অভিন্ন একটি অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে তাদের সহযোগিতা স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে বিরাজমান দেশ দুইটির সহযোগিতার চেয়েও “উন্নতর” হবে। সকল ক্ষেত্রেই দেশ দুইটির সহযোগিতার আওতাভুক্ত থাকবে। সম্ভবত রাশিয়া চীনকে তার সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রও প্রদান করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্রিমিয়া আক্রমণকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞা বলবত হয়। এ পটভূমিতে ২০১৪ সাল থেকে দেশ দুটির ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। চীনের সমর্থনের জোরে নিষেধাজ্ঞার ধকল সামলায় রাশিয়া। ফলে বাড়ে মস্কো-বেইজিং বাণিজ্য। চীন অধিক হারে কিনতে থাকে রুশ তেল ও গ্যাস।
এ মাসেই দেশ দুইটির বন্ধুত্ব নতুন রূপ নেয়। বেইজিং থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ন্যাটো সম্প্রসারণ বন্ধের রুশ দাবিকে প্রথমবারের মতো সমর্থন করে চীন। এদিকে এ বিবৃতিতে সই করে তাইওয়ানের ওপর চীনের দাবিকেও মেনে নেয় রাশিয়া। উভয় দেশই বিবৃতিতে বলেছে যে তারা ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে মার্কিন সামরিক জোট গঠনের এবং “পরমাণু শক্তি চালিত সাবমেরিনের ক্ষেত্রে” সহযোগিতার মার্কিন সিদ্ধান্তে “মারাত্মক উদ্বিগ্ন।”

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (বামে) এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং (ডানে)
প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং প্রেসিডেন্ট শি স্বাভাবিক মিত্র নাও হতে পারেন। তবে তাদের মধ্যে রয়েছে অনেক ভয়ঙ্কর মিল। উভয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বিশৃঙ্খল আধিপত্য বিস্তারকারী দেশ মনে করেন। উভয়ই সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের কারণে গভীর কম্পন অনুভব করেন। উভয়েই ভিন্নমতের মানুষদের ওপর খড়গহস্ত, নির্মমভাবেই তাদের দমিয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর। উভয়ই প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ-সীমা থেকে মুক্ত হতে পেরেছেন। এ সফলতা তাদেরকে আজীবন প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকার পথকেই করেছে প্রশস্ত।
উভয় নেতাই বিশ্বে বিশাল শক্তি হিসাবে নিজ নিজ দেশের ভূমিকা পুনরুদ্ধার করার কামনা-বাসনা ব্যক্ত করেন। পশ্চিমের কাছে তাঁদের দেশের যে সব অঞ্চল হারিয়ে গেছে তা উদ্ধার করার কথাও একসুরে বলছেন তাঁরা। রাশিয়ার জন্য এটি হলো ইউক্রেন এবং চীনের ক্ষেত্রে তাইওয়ান।
বেইজিং থেকে দেওয়া দুই নেতার বিবৃতির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো একে নিছক ঘোষণা বা বিবৃতি বলে মনে হয়নি। বরং কর্ম-ইশতেহার বা ম্যানিফেস্টো বলেই মনে হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্বাধিপতি’ নয় সে কথা মেনে নেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি এতে আহ্বানও জানান হয়।
বাইডেন “গণতন্ত্রের শীর্ষ সম্মেলনের” সভাপতিত্ব করার দু'মাসের মধ্যে এটি প্রকাশ করা হলো। বিবৃতিতে “অন্য দেশের উপর নিজস্ব ‘গণতান্ত্রিক মানদণ্ড’ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য কোনো কোনো রাষ্ট্রের প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন পুতিন এবং শি । বিশ্বে পরিবর্তন ঘটেছে এ কথা জোর দিয়ে বলেন তাঁরা। পরিবর্তিত বিশ্বে রাশিয়া এবং চীনকে “বিশ্বশক্তি” হিসাবে সম্মান করা উচিত বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। এতে আরো বলা হয়, তাদের কাছাকাছি এলাকায় কি ঘটবে তা দেশ দুটিই ঠিক করবে। মার্কিন মিত্রদের দূরে হটিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার পাশাপাশি মার্কিনীদের লড়াই করার ইচ্ছা নিবারণের প্রয়াস হিসেবে এ বিবৃতিকে মনে করা যেতে পারে।
এটা সত্যি যে পৃথিবী বদলে গেছে। অনেকের কাছেই মার্কিন গণতন্ত্রকে আর আগের মতো চকচকে দেখায় না। কি করতে হবে বা করতে হবে না সে বিষয়ে পশ্চিমাদের কথা শুনতে শুনতে বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
বেইজিং এবং মস্কো যুক্তি দেখায় যে বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রয়োজন মনে করলে অন্য দেশের ওপর গণতন্ত্র ও মানবাধিকার চাপিয়ে দিতে পারে আমেরিকা। এ জন্য দরকার হলে সামরিক হস্তক্ষেপেও দ্বিধা করে না দেশটি। রাশিয়া এবং চীন যে নতুন বিশ্বব্যবস্থার দাবি করছে সেখানে এমন বল প্রয়োগের বদলে স্বতন্ত্র প্রভাব বলয়গুলো সুচিহ্নিত থাকবে। নিজ নিজ প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর রাশিয়া এবং চীনের আধিপত্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে। পাশাপাশি পুতিন বা শি সরকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এমন রঙিন বিপ্লব বা গণতন্ত্রের প্রতি নিজ সমর্থনও ওয়াশিংটন ত্যাগ করবে।
এরপরও বিশ্বের বৃহত্তম নজরদারি রাষ্ট্রগুলোর কর্তৃত্ব মেনে নিতে চায় না তাদের প্রতিবেশীরা। এটা বললে অত্যুক্তি হবে না যে বিশ্বের ভাগ্য নির্ভর করছে, এই “স্বৈরাচারের অক্ষের” প্রতি যথাযথ জবাব দেওয়ার সক্ষমতার ওপর। বিপর্যয়মূলক যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে বরং পশ্চিমা মূল্যবোধ এবং মার্কিন মিত্রদের পক্ষে দাঁড়াতে হবে আমেরিকাকে। সম্পর্ক যতই পরীক্ষার মুখে পড়ুক না কেনো, সবার মনে রাখা উচিত যে আজ মানুষের সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে : জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারী এবং পরমাণু বোমার বিস্তার। একই হুমকিতে রয়েছে রাশিয়া এবং চীনও।
[ফারাহ স্টকম্যান নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য। নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে বাংলায় রূপান্তর করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা]
