চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ‘সুযোগ নেই’ মন্তব্য করে ‘গুজবে কান না দিতে’ সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
আর প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা কেউ করলে সরকার কতটা কঠোর হাতে তা দমন করবে, সেই ধারণাও তিনি দিয়েছেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
এসএসসি পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন রোববার ঢাকার একটি কেন্দ্র ঘুরে দেখার পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “প্রশ্ন ফাঁস কোথাও হবে না। তবে গুজব ছড়ানোর একটা চেষ্টা বরাবরের মত আছে।”
তিনি হুঁশিয়ার করেন: “মাদক, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস করে আমাদের সন্তানদের ভবিষৎ নষ্ট করার অপচেষ্টা যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে এর চেয়ে কম কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আমি অনুরোধ করব, সবাই যেন এ বিষয়ে সাবধান থাকে।”
মহামারীর কারণে এ বছর নয় মাস বিলম্বিত হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। নতুন বাস্তবতায় পাঠ্যসূচি সংক্ষিপ্ত করার পাশাপাশি পরীক্ষার সময়ও কমিয়ে আনা হয়েছে।
রোববার সকালে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনের পর শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের ভিড় দেখে অসন্তোষ জানিয়ে দীপু মনি বলেন, “তারা যেখানে অপেক্ষা করছেন, সেখানে অনেক ভিড়। স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। আমি আগেও অনুরোধ জানিয়েছি। তাদের অনুরোধ করব, যেখানেই থাকবেন, জটলা যেন না করেন।”
সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে কেবল তিনটি নৈর্বচনিক বিষয়ের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে কিনা- এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মূল্যায়নের নানা পদ্ধতি রয়েছে সারা বিশ্বে। লম্বা পরীক্ষা নিলেই মেধা যাচাই হবে তা নয়। অ্যসাইনমেন্টসহ নানান কিছু করেছে এই শিক্ষার্থীরা। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তারা কতটা শিখেছে, সেটাই বড় বিষয়।”
এক মাসের মধ্যে এবারের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে আগামী বছর মে-জুনের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “২০২২ সালের পরীক্ষাও আগের ডেটে (ফেব্রুয়ারিতে) নেওয়া যাবে না। তবে এবারের মতো এত দেরি হবে না। কারণ সিলেবাস কমপ্লিট করতে তো সময় দিতে হবে।”
সরকার দেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দিচ্ছে। সব শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনার চেষ্টার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যতজনকে সম্ভব দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চেষ্টা করছে, আমরা সহযোগিতা করছি।
“এসএসসি পরীক্ষা যারা দিচ্ছে, যেহেতু ঢাকায় টিকাদান চলছে- তাদের খুবই কম টিকা পেয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের যতদূর সম্ভব দেব, ঢাকার বাইরেও তারা টিকা পাবে। তবে টিকা ছাড়া কেউ পরীক্ষা দিতে পারবে না, এমন নয়।”
নতুন শিক্ষাক্রমে জেএসসি পরীক্ষা থাকবে কি না- এ প্রশ্নে দিপু মনি বলেন, “ওভাবে সেটা থাকবে না। তবে অবশ্যই মূল্যায়ন হবে। শিক্ষাক্রম চালু হলে মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।”
কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নেহাল আহমেদ শিক্ষামন্ত্রীর সাথে ছিলেন।
