Loading...
The Financial Express

প্রথমে ভাড়া করেন মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার, পরে ছিনতাই করেন তারা

| Updated: June 05, 2021 21:35:40


প্রথমে ভাড়া করেন মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার, পরে ছিনতাই করেন তারা

যাত্রী সেজে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার ভাড়া করার পর গন্তব্যের কাছে আসতেই আসল চেহারা বেড়িয়ে আসে তাদের, অস্ত্রের মুখে চালককে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে গাড়ি ছিনতাইকারী করেন তারা।

এমন একটি চক্রের ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন-  মীর মিজান মিয়া, মো. হাবিব মিয়া, মো. ফারুক, কামাল মিয়া, মো. আল আমিন ও মোবারক।

শনিবার গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার নরসিংদী ও কুমিল্লার একাধিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছেন।

অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করেন ডিবি কর্মকর্তারা।

শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হাফিজ আক্তার বলেন, "উত্তরা পূর্ব থানায় দস্যুতা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে একটি চক্র আছে, যারা কৌশলে প্রাইভেটকার ভাগিয়ে নেয়।

“পরে অল্পদামে বিদেশ থেকে কয়েক মাসের জন্য দেশে ঘুরতে আসা ব্যক্তিদের কাছে ওইসব গাড়ি বিক্রি করে দিচ্ছে।“

এমন তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে হাবীব মিয়াকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।“

গ্রেপ্তারদের প্রাথামিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, "গত ২১ এপ্রিল গ্রেপ্তার হাবিব মিয়া তার বিদেশ ফেরত এক আত্মীয়কে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আনার কথা বলে কিশোরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি হায়েস মাইক্রোবাস ভাড়া করেন।

“পরদিন ২২ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মাইক্রোবাস চালক আবুল বাশার গ্রেপ্তার হাবিবের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী করিমগঞ্জ থানা এলাকা থেকে চারজন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।“

এই মাইক্রোবাস ছিনতাইয়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “ওইদিন রাতে আনুমানিক ১১টায় তাদের বহন করা মাইক্রোবাসটি ঢাকার আব্দুল্লাহপুরে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা যাত্রীবেশে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা লুঙ্গি, গামছা ও দড়ি দিয়ে মাইক্রোবাস চালকের হাত-পা বেঁধে ফেলে মাইক্রোবাসের নিয়ন্ত্রণ তারা নেয়।

"এরপর ফারুক মাইক্রোবাসটি চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার গাউছিয়া নরিকান্দী রোডে নিয়ে যায়। এরপর মাইক্রোবাসের চালক বাশারকে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে সোনারগাঁয়ের দিকে চলে যায়।“

এরপর হাবিব গাড়িটি চালিয়ে কুমিল্লার চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ে গিয়ে সেখানে অবস্থানরত তাদের আরেক সহযোগী মিজানের কাছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এ সময় জানানো হয়, এরপর মিজান ভুয়া নম্বর প্লেট ও কাগজপত্র সংগ্রহ করে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ার বিনিময়ে ওই গাড়িটি চালাতেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা হাফিজ জানান, চক্রটি এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ গাড়ি চুরি করেছে সেটির তদন্ত চলছে। তবে তারা জানিয়েছে- ছিনতাই করা প্রাইভেটকারগুলো তারা সিলেটে বেশি বিক্রি করেছেন।

কারণ সিলেটে বিদেশ ফেরত বহু দেশি নাগরিক আসেন। ওই প্রবাসীরা কয়েক মাসের জন্য ব্যবহারে অল্প দামে গাড়ি কিনতে চান। এ চক্র ওই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, "চক্রটি এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গ্রামের বিভিন্ন সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে অব্যবহৃত সিম কিনে ব্যবহার করত।

“তারা মনে করত সেসব সিম ব্যবহার করলে তাদেরকে ধরা যাবে না।“

এ কারণে নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম অন্যকে না দেয়ার অনুরোধ জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।

 

Share if you like

Filter By Topic