দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ শিল্প এখনও কঠিন সময় পার করছে এবং বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলো এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি।
মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে এই শিল্পে আরও কিছু সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম মান্নান (কচি) নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করে, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
সে বৈঠকে বিজিএমইএর নেতারা বলেন, দেশে করোনাভাইরাস মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচি থেকে যে ঋণ নিয়ে তারা শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছেন তা ফেরত দিতে আরও সময় প্রয়োজন।
পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাবদ রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোকে যে প্রণোদনা ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা পরিশোধে ১৮ কিস্তির পরিবর্তে ৩৬ কিস্তি নির্ধারণ করার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চ মাসে পর শিল্প খাতের জন্য প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকার।
এর আওতায় শ্রমিকদের এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেতন পরিশোধ করতে ৪ শতাংশ সুদে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয় পোশাক খাতে। মালিকদের আবেদনে পরে জুলাই মাসে দেওয়া হয় আরও প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা।
২০২০ সালের এপ্রিল থেকে দেওয়া এসব প্রণোদনা ঋণের ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড ইতোমধ্যেই তিন দফায় অতিরিক্ত ছয় মাসেরও বেশি সময় বাড়ানো হয়েছে।
মঙ্গলবারের বৈঠক নিয়ে বিজিএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সঙ্কটময় সময়ে তৈরি পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখার নিমিত্তে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য প্রদত্ত ঋণ পরিশোধের কিস্তির সংখ্যা ১৮টির পরিবর্তে ৩৬টি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বিজিএমইএ নেতারা রুগণ কিংবা বন্ধ ১৩৩টি তৈরি পোশাক কারখানাকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের মূল ঋণ ও আয় খাতে নিট সুদ অবসায়নের দাবিও জানিয়েছেন।
মহামারীর এই সময়ে যেসব উদ্যোক্তারা নিরাপদে ব্যবসা বন্ধ করতে চান, তাদের জন্য চ্যাপ্টার ১১ (দেউলিয়া ঘোষণার মতো) এর অনুরূপ ব্যবসা থেকে প্রস্থান নীতি প্রণয়নের জন্য সরকারকে অনুরোধ করেন তারা।
গত অর্থবছরের শেষ দুই মাসে পোশাক রপ্তানি কিছুটা পিছিয়ে গেলেও নতুন অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে একটু একটু করে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা শুরু করেছে পোশাক রপ্তানি।
তবে বিজিএমইএ নেতারা বলছেন, তাদের সঙ্কট এখনও কাটেনি বলে তারা সরকারের দৃষ্টি চান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে কোভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে পোশাক শিল্পের কঠিন সময় দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং শিল্প এখনও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলো এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি।
আশা করা হয়েছিল যে মহামারি পরিস্থিতির উন্নয়নের সাথে সাথে পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে সমর্থ হবে। কিন্তু নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার ও সংক্রমণ শিল্পকে আবার নতুন করে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে।
বিজিএমইএর প্রতিনিধি দলে সংগঠনের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) খন্দকার রফিকুল ইসলাম ও পরিচালক এম এহসানুল হক ছিলেন।
বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান এখন যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন।