ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চল থেকে বেসামরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে ব্যবহৃত একটি রেল স্টেশনে দুটি রুশ রকেটের আঘাতে ৩০ জনের বেশি নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেইনের রাষ্ট্রীয় রেল কোম্পানি।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইউক্রেইনিয়ান রেলওয়েজের চেয়ারম্যান ওলেকসান্দার কামিশিন বলেছেন, দোনেৎস্কের ক্রামাতোরস্কে এ রকেট হামলা হয়েছে।
সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, লিখেছেন তিনি।
ক্রামাতোরস্ক সিটি কাউন্সিল জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
দোনেৎস্কের আঞ্চলিক গভর্নর পাবলো কিরিলেঙ্কো বলেছেন, রেল স্টেশনটিতে রকেটের আঘাতে কয়েক ডজন হতাহত হয়েছে বলে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছে।
রকেট পড়ার সময় স্টেশনটিতে দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেইনের তুলনামূলক নিরাপদ অঞ্চলে যাওয়ার চেষ্টা করা কয়েক হাজার লোক ছিল বলে কিরিলেঙ্কো দাবি করেছেন।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইনস্টাগ্রামে বলেছেন, যুদ্ধের ময়দানে আমাদের সামনে দাঁড়ানোর হিম্মত ও সাহস না থাকায় তারা (রুশ বাহিনী) এখন নিষ্ঠুরভাবে বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এই শয়তান এমন যার সীমা পরিসীমা নেই, শাস্তি না হলে এ থামবে না।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দোনেৎস্কের ওই রেল স্টেশনে হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি।
ক্রামাতোরস্কে রেল স্টেশনে হামলায় রাশিয়া ইস্কান্দার বা টোচকা-ইউ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি কিইভের।
অন্যদিকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, প্রত্যক্ষদর্শীরা যেসব ছবি দিয়েছেন, তাতে হামলায় টোচকা-ইউ ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার হয়েছে বলে বোঝা যাচ্ছে; ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি কেবল ইউক্রেইনের বাহিনীই ব্যবহার করে।
একই ধরনের একটি ক্ষেপণাস্ত্র গত ১৪ মার্চ দোনেৎস্ক শহরে আঘাত হানে বলেও রুশ সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
মার্চের ওই হামলা ইউক্রেইনই করেছিল বলে দাবি মস্কোর; সেদিনের হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছিল বলেও জানিয়েছিল তারা।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।