পুরনো বইয়ের যত্নে


শবনম জাবীন চৌধুরী | Published: November 08, 2021 15:27:27 | Updated: November 08, 2021 21:03:40


ছবি- সংগৃহীত

আমরা কেউ হয়তো বিশেষ উপলক্ষে বই কিনে থাকি আবার কারো মাথায় যেন সারাক্ষণ বই সংগ্রহের পোকা ঘুরে বেড়ায়। প্রত্যেকের বাড়িতেই একটি করে বইয়ের সংগ্রহশালা থাকে। কারো ক্ষেত্রে হয়তো একটি সেলফ জুড়ে, কারো বা বিশাল একটা ঘর জুড়ে।

সময়ের সাথে সাথে নতুন বইয়ের পাতাগুলো পুরনো হতে থাকে, বইয়ের মলাটটাতেও যেন খানিকটা জীর্নতার ছাপ চলে আসে। তাই নতুন বইয়ের পাশাপাশি পুরনো বইয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন একটুখানি বাড়তি যত্নের। চলুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে পুরনো বইয়ের যত্ন নেওয়া যায়-

বই ব্যবহারে যত্নশীলতা

নতুন হোক বা পুরনো, যেকোন বইয়ের ক্ষেত্রেই যত্নশীল হতে হবে। তবে পুরনো বই পড়া বা নাড়াচাড়া করার ক্ষেত্রে যেন একটু বেশিই যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। চেষ্টা করতে হবে পুরনো বইগুলো যেনো কখনো হাত থেকে পড়ে না যায়। বইয়ের তাক থেকে বই নামানোর সময় বইয়ের উপরের দিকে না ধরে বরং বাঁধাইয়ের দিকটা ধরে বের করতে হবে।

জোরপূর্বক বই খোলা বা বই খুলে সমতলাকারে রাখা যাবে না, এমনটা করলে বইয়ের বাঁধাই নষ্ট হয়ে যাবে। পড়া শেষে তাকে বই তুলে রাখার সময় বাঁধাইয়ের দিকটা বাইরের দিকে রাখতে হবে। পরিষ্কার হাতে বই নাড়াচাড়া করতে হবে এবং বইয়ের আশেপাশে কোন ধরনের খাবার বা পানীয় না রাখাই শ্রেয়।

তাকে বই সাজানোর ধরন

পুরনো বইগুলো তাকে সাজানোর সময় খুব আঁটসাঁট করে সাজিয়ে রাখা যাবে না। খুব আঁটসাঁট করে রাখলে বই বের করার সময় বইয়ের বাঁধাই দূর্বল হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও পুরনো বইগুলো খাড়াভাবে না রেখে আনুভূমিকভাবে সাজিয়ে রাখতে হবে।

ধূলাবালি মুক্ত পরিবেশ

বইয়ের উপর ধুলোবালি জমলে তা খুব অল্প সময়ের মধ্যে ছত্রাকের আবাসস্থল হয়ে উঠে। অনেকসময় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোকারও জন্ম হয় যা পুরনো বই নষ্ট করে ফেলে। শুধু তাই নয় এই জমে থাকা ধুলাবালির কারণে বইয়ের ভাঁজে ভাঁজে অনাকাঙ্ক্ষিত দাগ সুস্পষ্ট হয়ে উঠে।

তাই পুরনো বইগুলো সযত্নে রাখার জন্য প্রতিদিন বইয়ের উপর জমে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার করতে হবে। তবে এ এক্ষেত্রে কখনোই কোন ধরনের পরিষ্কারক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা যাবে না।

ধুলোবালির ঝামেলা খানিকটা কম পোহানোর জন্য সামনে কাঁচ দেওয়া রয়েছে এমন ক্যাবিনেট ব্যবহার করা যেতে পারে।

সূর্যালোক থেকে দূরে

পুরনো বইগুলো যে জায়গায় বা তাকে রাখা হবে, খেয়াল রাখতে হবে সেই জায়গাটিতে যেন সরাসারি সুর্যালোক এসে না পড়ে। সুর্যের আলট্রাভায়োলেট রশ্মি বইয়ের মলাটকে ধীরে ধীরে বিবর্ণ এবং বইয়ের পাতাগুলোকে হলুদাভ করে তোলে। তাই পুরনো বই সংরক্ষণে এই বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

অতিরিক্ত তাপ বা আর্দ্রতার সংস্পর্শ থেকে দূরে

তাপ উৎপন্ন হয় এমন কোন উৎসের কাছাকাছি বই রাখা যাবেনা। পুরনো বইয়ের মলাটা যেগুলো চামড়া দিয়ে করা হয়েছে সেগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং আঠাগুলোও আলগা হয়ে যায়। স্কটল্যান্ডের জাতীয় গ্রন্থাগারের তথ্য অনুযায়ী, বই সংরক্ষণের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা হচ্ছে ৬০഼-৬৬഼ ফারেনহাইট।

ঠিক একইভাবে বাড়ির অপেক্ষাকৃত আর্দ্র জায়গাটি কখনোই বই সংরক্ষণের জায়গা হিসেবে নির্বাচন করা যাবে না; যেমন বাড়ির পুরনো জানালা, পানির পাইপ বা এসি রাখা রয়েছে এমন জায়গাগুলো থেকে বইয়ের তাক দূরে রাখতে হবে। নতুবা পানির আর্দ্রতা থেকে ধীরে ধীরে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। স্কটল্যান্ডের জাতীয় গ্রন্থাগারের তথ্য অনুযায়ী, বই সংরক্ষণের জন্য আদর্শ আর্দ্রতার মাত্রা হচ্ছে ৪৫ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ।

বিভিন্ন ধরনের বুক কভার

ধুলোবালি, ময়লা, তেল থেকে পুরনো বইগুলোকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এসিড মুক্ত ও আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি প্রতিরোধী প্লাস্টিকের কভার ব্যবহার করা যেতে পারে।

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com

Share if you like