গীতিকার মহসীন মেহেদীর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলতি সপ্তাহে আংটি বদল করেছেন মহসীন মেহেদী ও ন্যান্সি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের গ্লিটজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যান্সি জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা পাশাপাশি নিন্দুকদের কুৎসার জবাবে নিজের ভাবনাও তুলে ধরেছেন।
সাক্ষাৎকারে হবু বরের সঙ্গে পরিচয় প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, “মহসীন মেহেদী একটি অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের চিফ অপারেটিং অফিসারের দায়িত্বে আছেন। তার সঙ্গে আমার শুধু পরিচয় ছিল, চেনাজানা ছিল।”
“তার সঙ্গে সে অর্থে ‘সম্পর্ক’ ছিল না। তার লেখা গান আমি করেছি। গত বছর তার লেখা ‘এমন একটা মন’ গানে কণ্ঠ দিয়েছি। আরও দুটি গান করা আছে, কিন্তু এখনও প্রকাশ হয়নি।”
বিয়ের আয়োজন নিয়ে এই সঙ্গীতশিল্পী বলেন, করোভাইরাসের এ পরিস্থিতিতে বেশি জনসমাগম করা সম্ভব না হলেও দুই পক্ষের আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে করার ঘরোয়াভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা হচ্ছে।
“এমনও হতে পারে, ঘরোয়াভাবে আকদ করলে যে কোনো সময় করা যেতে পারে। অগাস্ট শোকের মাস; আমি যেভাবে ঘটা করে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম সেটা শোকের মাসের সঙ্গে যায় না। কিন্তু যদি এটা হয় যে, ঘরোয়াভাবে কাবিন করানো যেতেই পারে,” বলেন তিনি।
“আমরা তো বিশ-পঁচিশ বছরের তরুণ-তরুণী না। আমাদের বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হচ্ছে। এগুলো আমাদের জন্য একটু বিব্রতকর। এই সময়ে এসে আবার সবাইকে বলা...। তাদের কিছু কথা শোনা। ‘হ্যাঁ, এটা করেছো? আগেরটা ঠিক ছিল না’।”
“দিন শেষে আমার লাইফ আমিই চালাব; সেটা অর্থনৈতিকভাবে হোক, কিংবা মানসিকভাবে। তারা না করবে অর্থর্নৈতিক সহযোগিতা, না করবে মানসিক সহযোগিতা। তারপরও এসব শুনতে হয়,” অভিযোগের সুরে বলেন ন্যান্সি।
“আমার যোগ্যতায়, পুনরায় বিয়ে করবার মতো সাহস আছে বা অবস্থান আছে। এটা আমি নিশ্চিত করতে পারছি যে, আমি আর দশটা মেয়ের মতো অবলা না।”
তিনি বলেন, “এই সমাজ পুরুষের কততম বিয়ে হচ্ছে সেটা নিয়ে যতটা না আগ্রহী তার চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী নারীর কততম বিয়ে হচ্ছে সেটা নিয়ে।”
“ষোল বছর ধরে গান করেছি। দুটো বাড়ি করেছি। আমার মনে হয় ইটস এনাফ। তারপরও এগুলো দেখতে হয়; শুনতে হয়।”
“ধরেন, এটা আমার তৃতীয় না; ত্রিশতম বিয়ে। ত্রিশবারের মতো আমি কোনো পুরুষকে গ্রহণ করতে যাচ্ছি। সেটা সেই পুরুষ জেনে, সানন্দে, সাগ্রহে আমাকে গ্রহণ করছে। আমার তো মনে হয়, এটাই বড় ব্যাপার।”
নিন্দুকদের উদ্দেশে ন্যান্সি বলেন, “আমি সৎসাহসের সঙ্গে বলতে পারি, দুই হাত ভরে মেহেদী দেব, গায়ে হলুদ দেব; বিয়েতে আমি নাচব, আমি গাইব। এটা তারা বলতে পারে না। নিজেরা সাধু বলে বলতে পারে না, তা না; ভয়ে বলতে পারে না। সেই ভয়টা আমি কাটিয়ে এসেছি।”
“সমাজটা আসলে কী, সমাজ মানে আমরা। আমি অনৈতিক কিছু করছি না, পাপ করছি না। রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কিছু করছি না। বিশ্বের বাইরের উদাহরণ বাদ দিলাম। আমার দেশেই এরকম ঘটনা কী আমিই প্রথম ঘটাচ্ছি? এমন ঘটনা অসংখ্য ঘটেছে।”
