পাবনা গণপূর্ত কার্যালয়ে অস্ত্র মহড়াকে সরকারি ঠিকাদারি ও নির্মাণ কাজে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের ‘পেশিশক্তি ব্যবহারের নগ্ন প্রকাশ’ হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
ওই ঘটনা দেখে উদ্বেগ জানিয়ে রোববার গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছে জার্মানভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
গত ৬ জুন পাবনায় গণপূর্ত বিভাগের দপ্তরে অস্ত্র নিয়ে যান আওয়ামী লীগের একদল নেতা, যারা ঠিকাদারিও করেন।
এই ঘটনার সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ হলে তা আলোচনায় আসে। শনিবার এ বিষয়ে গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সরকারি ক্রয়, নির্মাণকাজ এবং প্রাতিষ্ঠানিক নানা কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার জন্য প্রতিযোগিতামূলক যেই টেন্ডার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও স্বার্থান্বেষী মহলের অবৈধ বলপ্রয়োগ, হুমকি-ধমকি এবং জবরদখলে দীর্ঘদিন ধরেই তা অকার্যকর হয়ে আছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নানা কর্তৃপক্ষ ছোটখাট কিছু ব্যতিক্রম ব্যতীত বরাবরই তা অস্বীকার এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুরক্ষা প্রদান করে আসছে।”
পাবনার ঘটনা তারই নজির মাত্র’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”
আওয়ামী লীগের ওই নেতারা বৈধ অস্ত্র বলে দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “যদি অস্ত্রগুলো বৈধ হয়েও থাকে, তবুও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে জনসম্মুখে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে ভীতি সঞ্চার করা আইনসিদ্ধ হতে পারে না। তাই এঘটনাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলাটা অত্যুক্তি হবে না।
“এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ‘অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে’- পুলিশের এমন দায়সারা আশ্বাস আমাদের স্তম্ভিত করেছে।”
পুলিশের ‘আশ্বাসে’ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ থমকে যাবে কি না, সেই সংশয়ও প্রকাশ করেন ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, “সরকারি দলসংশ্লিষ্ট হিসেবে এই অস্ত্র মহড়ার কুশীলবরা ছাড় পেয়ে গেলে এ ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিষাক্ত সাপের মত সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়বে।”
