ঢাকার সাভারের ব্যবসায়ী আহসান হাবিব নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে গিয়ে তার অগ্নিদগ্ধ লাশ পেয়েছিল পরিবার। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
আহসানকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির পরদিন গত ৮ মে তার মৃত্যু হয়েছিল। তখনও তার পরিবার খোঁজ পায়নি।
পরে পরিবার লাশ শনাক্তের পর মামলা করে। সেই মামলার তদন্তে নেমে চারজনকে গ্রেপ্তারের পর সিআইডি বলছে, আহসানকে পাওনা টাকার বিরোধ থেকে হত্যা করা হয়।
গ্রেপ্তার নুরুন নবী রনিই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন বলে দাবি করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন- মো. হাসান আহমেদ, জাহিদ হোসেন ও রঞ্জু।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নুরুন নবীর সঙ্গে নিহত ব্যবসায়ী আহসান হাবিবের ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল। রনির কাছে হাবিব ২০ লাখ টাকা পেত।
সেই বিরোধের জের ধরে রনি তার আরও তিনজন সহযোগীদের নিয়ে ব্যবসায়ী আহসান হাবিবকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তারপর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
গত ৭ মে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার হরিণহাটি এলাকার একটি বাসার নিচতলার বাসা থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহসানকে।
তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে পরদিন তার মৃত্যু হয়।
অনেক খোঁজাখুজি শেষে মর্গে আহসানের লাশ পাওয়ার পর তার শ্যালক জাকারিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং জড়িত আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে।
সিআইডি কর্মকর্তা মুক্তা বলেন, সোমবার রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে নুরুন নবী রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, যে বাসায় ব্যবসায়ী আহসান হাবিবের শরীরে আগুন দেওয়া হয়, সেই বাসাটি ভুয়া পরিচয় দিয়ে ভাড়া নেয় রনি। পহেলা জুন এ বাসায় তার দুজন কর্মচারী থাকবে বলে বাড়ির মালিককে জানায়।
ভাড়া নেওয়ার পর রুমটি তালাবদ্ধ ছিল। রনি কোনো এক সময়ে এই ব্যবসায়ীকে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে এবং তাকে আঘাতের পরে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আবার তালা মেরে পালিয়ে যায়।