পরিকল্পনার আয়নায় সুন্দর হোক জীবন


সঞ্জয় দত্ত | Published: July 12, 2021 17:19:19 | Updated: July 13, 2021 10:09:37


পরিকল্পনার আয়নায় সুন্দর হোক জীবন

পৃথিবীর সব কাজের চাওয়া আসলে কী? কর্মকে এমন প্রশ্ন করা গেলে হয়তো গোটা দুনিয়ায় কাজ খুব উঁচু গলায় দাবি করতো পরিশ্রমী মানুষ আর পরিকল্পনা ছাড়া আমাদের আর কিচ্ছু চাই না। সত্যিই তো, একটি কাজের আর কীইবা চাওয়ার থাকতে পারে?

আমাদের আশেপাশে এমন অসংখ্য সফল মানুষ রয়েছেন, যাদের দেখে আমরা ঈর্ষান্বিত হই। ভাবি, কত সহজেই তারা পেয়ে গেছে কাঙ্ক্ষিত বস্তু। কিন্তু সফলতা কি এতটাই মামুলি কিছু? কঠিন বলছি না। তবে, এই মানুষগুলো নিশ্চিত অর্থেই তাদের কর্মে শ্রম এবং পরিকল্পনার সুন্দর বন্ধন তৈরি করতে পেরেছিল বলেই, তাদের মুখে হাসি আজ। আজকের এ লেখায় আমরা আজ সফলতার অন্যতম কারণ- পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ করব। জানব, পরিকল্পনার সুফলগুলো নিয়ে।

উদ্দেশ্য অর্জনে

প্রতিটি কর্মের কিছু না কিছু উদ্দেশ্য থাকে। সে উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইলে থাকতে হয় সঠিক পরিকল্পনা। পরিকল্পনা ছাড়া মাঠে নেমে পড়লে, ব্যক্তি ঠিক কোথায় যাচ্ছেন, সে পথটা আদৌ তার জন্য সঠিক কি না, অনেকটাই ঝাপসা লাগে।

দরকার-অদরকার

আমরা রোজ কত কী করি; তার সবটাই যে আমাদের জন্য ভালো, এমনটা কিন্তু না। হয়তো নিজেকে দেখতে চাইছি এক জায়গায়, অথচ করছি এমন কিছু, যা কিনা সম্পূর্ণই বিপরীত। এমন পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা হতে পারে যোগ্য কবচ। কারণ, আমাদের হাতে যখন সঠিক পরিকল্পনা থাকে, তখন কী করা দরকার আর কী না করা ভালো, অনেকটাই স্পষ্ট মনে হয়।

স্বচ্ছ ধারণা

সব কাজে নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া থাকে। এবং যেগুলো সবার জন্য প্রায় একইরকম। কিন্তু, একইরকম বলে সবাই যে তা অনুসরণ করতে পারে, তা মোটেও নয়। এর পেছনে দায়ী পরিকল্পনার অভাব। ব্যক্তি যখন, তার পছন্দসই কর্মের জন্য একটি ছক না কষেন, তখন খুব সরল পথগুলোও আড়াল হয়ে পড়ে। এতে করে ব্যর্থতার গর্ত আরো গভীর হয়।

সময়বোধ

যেকোনো ব্যাপারে সময়বোধ খুব জরুরি কথা। আমরা যা-কিছুই চাই বা পাই, তা হয়তো সবসময় ঠিকঠাক মিলে যায় না । কিন্তু কিছু না কিছু তো আমাদের হাতে থাকে, যা পেলে আমরা কিঞ্চিৎ হলেও সুখে থাকতে পারি। এখন কেউ যদি জীবনের শেষ দিনে এসে এমনকিছু একটা পায়, যা ছিল তার বহু বছর আগেকার চাওয়া, এমন পাওয়া আসলে তার জন্য কতটা রোমাঞ্চ বয়ে আনে? সময় গেলে কি সত্যিই সাধন হয়?

প্রাপ্তির আনন্দ সবসময়ই সুন্দর। কিন্তু বাস্তবতা বলে, আজ যেন থাকি ভালো। জীবনের এমন কঠিন মুহূর্তে, পরিকল্পনাই হতে পারে পরম বন্ধু। কারণ, আপনি যা চান, তার জন্য পরিকল্পনা থাকলে, কখন কী প্রাপ্তি হতে পারে, কীভাবে হতে পারে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- কখন হতে পারে, সেসব সম্পর্কে খুব ভালো একটা পূর্বানুমান অন্তত করা যায়।

মেনে নেয়ার মানসিকতা

সব কর্মে দুর্দিন বলে কিছু একটা থাকে। সবসময় কাজ থেকে ইতিবাচকতার সন্ধান করা যদিও বোকামি, কিন্তু সবাই তা মেনে নিতে পারে না। তবে যারা কাজ প্রারম্ভের পূর্বে পরিকল্পনা হাতে নিয়ে ময়দানে নামে, তারা এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই সামলে নেয়। কারণ, ব্যাপারটি তখন তাদের কাছে খুব পরিচিত এবং অবশ্যম্ভাবী বলে মনে হয়। তাই, কর্মে আসা সমস্ত নেতিবাচকতা সরিয়ে সামনে এগোতে চাইলে, অবশ্যই সঠিক ছকথাকা দরকার।

আত্মবিশ্বাস

কর্মে বিশ্বাস অনস্বীকার্য বস্তু। এটি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও পরিকল্পনার যথেষ্ট অবদান থাকে। হাতে যখন সঠিক ছক থাকে, তখন ভালো-মন্দ মোকাবেলায় মানসিক প্রস্তুতিও থাকে। এতে ভয়ডরহীন একটা বোধ আপনার ভেতর বিরাজ করে। যা বাড়িয়ে দেয় আত্মবিশ্বাস।

পরিমিতি বোধ

কিছু কিছু সময় থেমে যাওয়া বা বিরতি নেয়ার কৌশলী আচরণ আমাদের এগিয়ে দেয়। দাঁড়িকমার এই সঠিক প্রয়োগের ক্ষেত্রেও থাকে পরিকল্পনার অবদান। ছক ছাড়া কোনো কাজে মনোযোগী থাকলে, পরিস্থিতি বা সময় সম্পর্কে ধারণা করা মুশকিল হয়ে পড়ে।

ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা

আমরা যা কিছু করি না কেন, দিনশেষে সবাই ভালো থাকতে চাই। চাই, অনাগত ভবিষ্যতে যেন নিরাপত্তা বজায় থাকে। কিন্তু সে চাওয়ায় যদি পরিকল্পনা না থাকে, তবে তা অনেকটাই মুশকিল। ব্যক্তি যখন ছক কষে পা বাড়ায়, তখন ভবিষ্যতে সে নিজেকে কোথায় দেখতে চায়, তার বর্তমান অবস্থা কী, এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে কেমন আয়োজন প্রয়োজন, সে সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জ্ঞাত থাকে।

পৃথিবীতে আসার দরকার তো শুধু এই বেঁচে থাকা। শুধু শ্বাস ধরে বাঁচা নয়, ভেতর থেকে বাঁচা। জীবন যেহেতু একটি পথ হয়ে ধরা দেয়, সেহেতু পথে বাঁক থাকবেই। সে বাঁক সামলে আমাদের যেতে হবে সামনে, আরও আরও। অনেক সময় মনে হতে পারে, সামান্য ভ্রমণে এত কৌশল, এত শিক্ষা, এত দীক্ষায় কাজ কী? তবু চলার পথে তার প্রয়োজনীয়তা ক্ষণে ক্ষণে অনুভব করি সবাই, তাই পরিকল্পনার আয়নাতে থাকা জীবনটুকু হয় আরো স্বচ্ছ-সুন্দর।

সঞ্জয় দত্ত বর্তমানে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

sanjoydatta0001@gmail.com

Share if you like