Loading...
The Financial Express

পদ্মা সেতুর মতো একটা সেতু ৫০ বা ১০০ বছরেও আর হবে না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

| Updated: May 31, 2022 22:47:06


পদ্মা সেতুর মতো একটা সেতু ৫০ বা ১০০ বছরেও আর হবে না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

পদ্মা সেতু দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে পাল্টে দেবে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেছেন, এমন সেতু আগামী ৫০ বা ১০০ বছরেও আর একটি হবে না।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্প বাড়বে, মোংলা বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে এবং এশিয়ান হাইওয়ে সুবিধা ব্যবহার করে দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত ছাড়াও দেশের বাইরে যাওয়ার সুবিধা হবে।

শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় মসিউর রহমান জানান, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পর বিশ্ব ব্যাংকসহ ঋণদাতা সংস্থাগুলো দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশে চাকরির প্রলোভনও দেখিয়েছিল। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

তিনি বলেন, “আমার ওপরে যে চাপ ছিল যেমন, এখানে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ছাড়া অন্য যারা এতে অর্থায়ন করছে- বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, জাইকা- এরা একদিন সকালে আগে সময় ঠিক করে আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইল। প্রথমে তারা বলল যে, জাপানের অ্যাম্বাসির অফিসে।

আমি বললাম, দেখো জাপান অ্যাম্বাসির অফিসে আমি যাব না। আমার নিজের কাছে যুক্তি ছিল যে, জাপানি অ্যাম্বাসির কাছে যদি আমি যাই, তাহলে যেটা মানুষের ধারণা হবে এবং প্রচার হবে- সেটা হলো, আমি বোধহয় তাদের কাছে নতজানু হয়ে কোনো একটা সুবিধা চাচ্ছি। জাপানি অ্যাম্বাসেডরকে বললাম, তুমি তাহলে আমার এখানে আস। জাপানি অ্যাম্বাসেডর বলল- ‘না, তোমার ওখানে গেলে সাংবাকিদের ফেইস করতে হবে, আমি সাংবাদিকদের ফেইস করতে পারব না। আমি বললাম, সাংবাদিকদের আমি ফেইস করব, তুমি আস।

মসিউর রহমান বলেন, “ওরা এসে আমাকে বলল যে, আমাকে দায়িত্ব ত্যাগ করতে হবে, দেশও ত্যাগ করতে হবে। দেশত্যাগের শর্ত হলো তারা আমাকে বিদেশে বিশ্ব ব্যাংকে বা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা কোথাও আমাকে একটা কনসালট্যান্সি জোগাড় করে দিবে এবং আমি যে বেতন চাই, সেই বেতনই তারা ব্যবস্থা করে দেবে। অথবা তারা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার কিছু কাজ ঠিক করে দেবে এবং আমাকে তারা টাকা দেওয়ার বন্দোবস্ত করে দেবে।

আমার উত্তর হলো দেখো, আমার যদি টাকা করার ইচ্ছা থাকত, তাহলে তোমরা যে দোষারোপ করছ, সেখানেই তো আমি টাকা করতে পারতাম। ওদের যেটা প্রস্তাব, এটা হলো একটা সামঞ্জস্যহীন প্রস্তাব। যে ‘দোষকরেছে, তাকে আবার তারা পুরস্কৃত করবে।

সেসময় আওয়ামী লীগ নেতা ও বন্ধুরাও তাকে বিদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানান মসিউর।

তিনি বলেন, “যেটা আমার বলা উচিৎ হবে এবং না বলাটা অনুচিত হবে যে, এই শক্ত পজিশন নেওয়ার ক্ষমতাটা কোত্থেকে আসলো? বিশ্ব ব্যাংক বলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কিছু গুরুজন স্থানীয়, যারা প্রভাবশালী, দু-একজন আমার বন্ধু, তারাও আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত- বন্ধু হিসেবে তারা আমাকে বলেছে যে, দ্যাখো তোমার নামে এসব ছড়াচ্ছে। তুমি কেন দায়িত্ব ত্যাগ করো না এবং দেশ ছাড় না কেন?

আমি বললাম, আমি দেশ ছাড়ব না এইজন্য যে, দেশের বাইরে গেলে আমার পায়ের তলায় মাটি থাকবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সাহস জুগিয়েছেনএ কথা বলতে বলতেই লাইভ অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে ঝরঝরিয়ে কেঁদে ফেলেন মসিউর।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলে চলেন, “আমি যেটা বলি সেটা হল, আমার ওপর একটা বড় ছায়া আছে। সেই ছায়াটা হল- বঙ্গবন্ধুর ছায়া। ওই ছায়া যতদিন থাকবে, ততদিন আমি নিরাপদ।

Share if you like

Filter By Topic