নির্বাচনের কোনো কাজে সেনাবাহিনীর দরকার নেই: সাবেক সিইসি নূরুল হুদা


FE Team | Published: June 12, 2022 20:35:32 | Updated: June 13, 2022 18:35:47


নির্বাচনের কোনো কাজে সেনাবাহিনীর দরকার নেই: সাবেক সিইসি নূরুল হুদা

নির্বাচনে কোনো কাজে সেনাবাহিনীকে ‍যুক্ত করার কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি কে এম নূরুল হুদা।

রবিবার বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাবেক সিইসি, কমিশনার ও সচিবদের এক মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন কে এম নূরুল হুদা। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

তিনি বলেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনীর একেবারেই দরকার নেই। কারণ বিগত নির্বাচনগুলোয় নির্বাচন পরিচালনায় তারা কোনো কাজে আসছে বলে মনে হয় না। প্রতিরক্ষায়, সার্বভৌমত্বের দায়িত্বে নিয়োজিত এলিট ফোর্স সেনাবহিনীকে নির্বাচনের মাঠে নামানোর দরকার নেই। আসলেই কোনো কাজে আসে না।

ইসির চ্যালেঞ্জ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে যতই স্বাধীন বলুন না কেন, কিছু কাজ সরকারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে কমিশনকে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

২০১৭-২০২২ সালে দায়িত্ব পালন করা সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, সকলের প্রত্যাশা সুষ্ঠু নির্বাচন। তবে এজন্য সব দলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হবে।

সাবেক সিইসি এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, আমাদের সময়ও বিএনপি ওয়াজ প্রোবলেমেটিক। অনেক সময় লাগছে আমাদের টেক দেয়ার কনফিডেন্স। আসতে চাননি, কিন্তু অনেক সময় ব্যয় করতে হয়েছে।

এখানে তো খুবই অ্যাডামেন্ট (অনড়) মনে হয়েছে, অন্তত যেসব কথাবার্তা বলে বেড়াচ্ছেন ওনারা কারেন্ট সিচুয়েশনে (নির্বাচনে) যেতে রাজি নেই।

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গঠিত যে ইসির নেতৃত্বে শামসুল হুদা ছিলেন, তাদের নিয়েও সমালোচনা ছিল বিএনপির। তবে বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতি নন তিনি।

শামসুল হুদা বলেন, আমি কমপ্লিকেটেড দেখতে পাচ্ছি। এবারের ইলেকশনটায় সব দল যদি না আসে, এটা কিন্তু গ্রহণযোগ্য হবে না। সুতরাং কীভাবে আনবেন, এটা আপনাদের দেখতে হবে, আপনাদের পাওয়ার অব পারস্যুয়েশন, আপনারা কী অফার করবেন, এটার উপর নির্ভর করছে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

৯০ এর অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফেরার কালে সিইসির দায়িত্ব পালনকারী বিচারপতি আব্দুর রউফ সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেন। সেই সঙ্গে প্রতি ৫০০ ভোটারের জন্য একটি কেন্দ্র করার প্রস্তাব রাখেন।

তবে বিদ্যমান আইন-বিধিতে ভালো নির্বাচন সম্ভব মন্তব্য করে আইন সংস্কারে হাত না দেওয়ার পরামর্শ দেন শামসুল হুদা।

মৌলিক কিছু করতে যাবেন না। আইন বিধি-পরিবর্তন কিছু করে আমরা পারবো না। আইন-কানুন যা আছে এ যথেষ্ট সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। ২০০৮ এর নির্বাচন করেছি এ আইনের মধ্যে, আমাদের তো কোনো অসুবিধা হয় নি। আরামসে করা গেছে। আমরা চাই সুন্দর নির্বাচন হোক।

জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হওয়ার দক্ষতা ইসির সব নিজস্ব কর্মকর্তার নেই মন্তব্য করে প্রশিক্ষণে জোর দেন শামসুল হুদা।

মতবিনিময় সভায় তিন সিইসি ছাড়াও সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ, মোহাম্মাদ আবু হাফিজ, সাবেক ইসি সচিব মোহাম্মাদ সাদিক, মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী ও মোখলেছুর রহমান অংশ নেন।

বর্তমান ইসির চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।

Share if you like