Loading...

নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলের কাছে নাম চাইবে সার্চ কমিটি

| Updated: February 07, 2022 12:32:05


নতুন সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার খুঁজতে রোববার সার্চ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জ থেকে বেড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন কমিটির সভাপতি আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। নতুন সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার খুঁজতে রোববার সার্চ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জ থেকে বেড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন কমিটির সভাপতি আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ কমিটির সদস্যরা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সেজন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদের জন্য নামের প্রস্তাব চাইবে আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন সার্চ কমিটি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

রোববার সার্চ কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই’ রাষ্ট্রপতির কাছে আইন অনুযায়ী ১০ জনের নাম জমা দেবে কমিটি। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত সার্চ কমিটির সময় থাকলেও ‘প্রয়োজনে’ ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সার্চ কমিটি কাজ চূড়ান্ত করতে পারবে।

সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে বিকাল সাড়ে ৪টায় ছয় সদস্যের সার্চ কমিটির বৈঠক শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা শেষে সার্চ কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ব্রিফ করেন।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আজকেই প্রথম মিটিং ছিল। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে- ২৪ তারিখ পর্যন্ত ১৫ দিন ওয়ারর্কিং ডেট রয়েছে, এর আগেই এটা করে দেওয়া হবে।”

সোমবার থেকেই নিবন্ধিত দলগুলো সার্চ কমিটির কাছে নাম জমা দিতে পারবে জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের কোনো চয়েজ, প্রপোজাল রয়েছে কিনা। সেটা কেবিনেট ডিভিশনের ইমেইল অ্যাড্রেসে কীভাবে জমা দিতে হবে, আজকেই নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।”

ব্যক্তিগতভাবে কেউ আগ্রহী হলে তিনিও সিভি বা দরখাস্ত জমা দিতে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

মঙ্গলবার সার্চ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক হবে। এরপর ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘সিভিল সোসাইটি, মিডিয়ার গণমান্য ব্যক্তি, নির্বাচন সংক্রান্ত এক্সপার্টদের নিয়ে’ তিনটি বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সার্চ কমিটি।

“আগামী শনিবার দুইটা আর রোববার দিন একটা মিটিং হবে। তাদের কাছ থেকে সাজেশন, বিভিন্ন প্রপোজাল নেওয়া হবে।”

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “সবার সঙ্গে আলোচনা শেষে আইন অনুযায়ী যোগ্যতা-অযোগ্যতা বিবেচনা করে প্রতিটি পদের বিপরীতে ২ জন করে ১০ জনের নাম বাছাই করবে সার্চ কমিটি।

সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন’র ২৭ জানুয়ারি সংসদে পাস হয়। এ আইনের আলোকে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠিত হয় শনিবার।

রোববার প্রথম বৈঠকে কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব এবং কমিটির কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়।

কমিটির সদস্য মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক (সিএজি) মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন, কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক বিকাল পৌনে ৪টা থেকে সোয়া ৪টার মধ্যে জাজেজ লাউঞ্জে পৌঁছান।

কমিটির সভাপতি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান আগে থেকেই সেখানে ছিলেন।

কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দিচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামও বৈঠকে ছিলেন।

সার্চ কমিটি একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং চারজন নির্বাচন কমিশনারের মোট পাঁচটি পদের জন্য দুজন করে ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করবে। তাদের মধ্যে থেকে বেছে নিয়ে রাষ্ট্রপতি গঠন করবেন ত্রয়োদশ নির্বাচন কমিশন। তাদের ওপরই থাকবে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ভার।

কিন্তু কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন ১৪ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ পূর্ণ করছে। বর্তমান ইসির মেয়াদপূর্তির আগেই নতুন ইসি চূড়ান্ত করতে হলে হাতে থাকছে আর নয় দিন। সার্চ কমিটির সদস্যরা তা করতে না পারলে ইসি শূন্য থাকার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “এটাও আমরা বিবেচনায় আনছি। কালকে আমরা দেখব। ২৪ তারিখ টাইম আছে বলেছি, ওই সময়ের মধ্যে করব বলা হয়েছে। ওই রকম কমপালসন থাকলে ১৪ তারিখের মধ্যে করে দেওয়া হবে।”

Share if you like

Filter By Topic