রুবিক্স কিউব মেলাতে পারেন - এমন মানুষের সংখ্যা হয়তো খুব বেশি নেই। কিন্তু এই কিউব মেলানো আকর্ষণ করে না, এমন মানুষের সংখ্যা কম নয় মোটেই। কে কত অল্প সময়ে কিউব মিলিয়ে ফেলতে পারে তা নিয়ে কোথাও না কোথাও হরহামেশাই প্রতিযোগিতা হচ্ছে। কিন্তু একেবারে রুবিক্স কিউবের মাঝেই নিজের জগৎকে গেঁথে ফেলেন এমন মানুষ পৃথিবীতে হয়তো খুবই নগণ্য, আর এমনই একজন জিওভানি কন্টার্ডি।
জিওভানি একজন ইতালিয়ান নাগরিক। শুধু কম সময়ে রুবিক্স কিউব মেলানোই নয়, সেই রুবিক্স কিউব ব্যবহার করে তিনি তৈরি করেন অসাধারণ সব চিত্রকর্ম যা দেখে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই। রুবিক্স কিউব মেলাতে তার লাগে ১০ সেকেন্ডেরও কম সময়। কিউব মেলানোয় তার ঝুলিতে আছে ষাটটির মত জাতীয় পর্যায়ের রেকর্ড, নয়টি ইউরোপিয়ান রেকর্ড এবং তিনটি বিশ্ব রেকর্ড।
ফিরে দেখা যাক জিওভানির অতীত। ২০০৯ সাল। তিনি তখন স্কুলের ছাত্র। স্কুলেরই এক বন্ধু তাকে কিউব সমাধান করা শেখায়। সেই থেকে জিওভানি এই ‘পাজল সলভিং’ ব্যাপারটির প্রেমে পড়ে যান। সময় দিতে থাকেন রুবিক্স কিউব মেলানোর নানা কৌশল আয়ত্ত করার পেছনে। শিখে নেন কীভাবে খুব অল্প সময়ে পাজল সলভ করা যায়।
তবে তিনি যে শুধু তার এই ভালবাসার জায়গাকে কিউব সমাধানে সীমাবদ্ধ রেখেছেন তা কিন্তু নয়। কিউব দিয়েই তিনি আঁকছেন দারুণ সব ছবি। চিত্রকর্মের মাঝেও তিনি কিউব নিয়ে তার দক্ষতাকে ব্যবহার করছেন। অনেকগুলো কিউব মিলিয়ে বানাচ্ছেন একেকটি ছবি। শিল্পের এক্ষেত্রে তার অনুপ্রেরণার অনেকটাই গ্রিক পুরাণ থেকে পাওয়া।

ছবি: ডেয়ারক্ল্যান
পরিমাণে শখানেকেরও বেশি রুবিক্স কিউব সমাধান করে সেগুলোকে বিশাল ফ্রেমে সাজিয়ে তিনি তৈরি করে যাচ্ছেন অসাধারণ সব চিত্রকর্ম। আর শুধু তাই নয়, বিশ্বব্যাপী তার চিত্রকর্মগুলো পেয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অজস্র ফলোয়ার রয়েছে। জিওভানির চিত্রকর্মগুলো চড়াদামে বিক্রিও হচ্ছে।
অনেকগুলো রুবিক্স কিউবকে জোড়া লাগিয়ে কাঠামোবদ্ধ করা নিঃসন্দেহে অনেক কঠিন কাজ। কেননা রুবিক্স কিউব মেলানোতে কোনো ভুল থাকলে পুরো চিত্রকর্মটাই নষ্ট হয়ে যায়। আবার এ কাজে সময়ও লাগে অনেক বেশি। একেকটা চিত্রকর্ম তৈরি করতে জিওভানির সময় লাগে প্রায় ১২ দিন।
প্রথমে তিনি কম্পিউটারে একটি ডামি ছবি আঁকেন। তারপর তিনি সবগুলো রুবিক্স কিউবকে ছবির মত করে সাজান এবং একটা বড় কাঠামোতে বসান। তার চিত্রকর্ম তৈরিতে সর্বোচ্চ ছয় হাজারের বেশি রুবিক্স কিউবও লেগেছে বলে জানান তিনি। অড্রে হেপবার্নের ছবিটি ডিজাইন থেকে মোজাইকে রূপান্তরিত করতে তার সাতশ পঁচিশটির মত রুবিক্স কিউব এবং প্রায় ১২ দিন সময় লেগেছে।
নামিদামী তারকারা তাদের নিজেদের ছবি জিওভানিকে দিয়ে আঁকিয়ে নিতে চেয়েছেন। উইল স্মিথ, দ্য রক খ্যাত তারকা ডোয়েইন জনসন তার আঁকা ছবিগুলো তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একাউন্টে পোস্ট করেন।
এই কাজ দিয়ে তিনি আয় করবেন, তা জিওভানির ভাবনার বাইরে ছিল। আর বর্তমানে তার একেকটি চিত্রকর্ম হাজার হাজার ডলারে বিক্রি হচ্ছে। তার বিখ্যাত চিত্রকর্ম গুলোর মধ্যে রয়েছে - ডোরা মার, এমি ওয়াইনহাউস, মেরিলিন ইত্যাদি৷ এগুলোর মাঝে ডোরা মারের ছবিটিই জিওভানির সবচেয়ে প্রিয়। প্রিয় তারকাকে নিজের দুটো ভালোবাসার মাধ্যম দিয়ে এঁকে খুশি তিনি।
অর্থী নবনীতা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করছেন।
aurthynobonita@gmail.com
