পুলিশের পোশাক পরা একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে টিপ পরা নিয়ে একজন শিক্ষককে হেনস্থার যে অভিযোগ উঠেছে, তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা শুরু করেছে পুলিশ। খবর বিবিসি বাংলা'র।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-কমিশনার মোঃ ফারুক হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ''তাকে আমরা শনাক্ত করেছি। তার নাম নাজমুল তারেক, তিনি পুলিশের সুরক্ষা বিভাগের একজন কনস্টেবল হিসাবে কাজ করেন। এই ঘটনায় একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।"
এই কমিটি সেদিনের পুরো ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে দেখবে। ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা পাওয়া গেলে তারা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে পারেন।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে স্থানে ওই ঘটনা ঘটেছে, তার আশপাশের বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক লতা সমাদ্দার অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে কর্মস্থলের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের পোশাক পরা একজন ব্যক্তি তাকে 'টিপ পরছোস কেন' বলে কটূক্তি করেন।
মিজ সমাদ্দার আরও অভিযোগ করেন, সেই সময় তিনি প্রতিবাদ জানালে তার গায়ের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন পুলিশের পোশাক করা ওই ব্যক্তি।
শনিবার সকালে ওই ঘটনা ঘটলেও তিনি রবিবার শেরে বাংলা নগর থানায় অভিযোগ করেছেন।
ওই ঘটনার পর শেরে-বাংলা নগর থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে বলেন, মিজ সমাদ্দার গাড়ির লাইসেন্স নাম্বারের কয়েকটি ডিজিট বলতে পেরেছিলেন, কিন্তু তা থেকে গাড়িটি শনাক্ত করা যায়নি। তিনি বলেছিলেন বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে যাচাই-বাছাই করে মোটর-বাইক ও তার চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।
রবিবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য সুর্বণা মোস্তফা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ''বাংলাদেশের কোন সংবিধানে কোন আইনে লেখা আছে যে, একজন নারী টিপ পরতে পারবে না? এটি অত্যন্ত ঘৃণিত একটি ঘটনা।''
''ইভটিজিং ঘটনা আমরা শুনে এসেছি বখাটে ছেলেপেলে স্কুলের বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের ইভটিজ করে। সেই পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু আমি যখন দেশের আইন রক্ষাকারী কাউকে ইভ টিজিংয়ের ভূমিকায় দেখি মাননীয় স্পিকার, তখন সেটা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর একটি ঘটনা।''
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমেও তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে। অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের টিপ পরা ছবি পোস্ট করতে শুরু করেছেন।
এর আগেও মধ্যরাতে সিএনজি আটকে নারীদের হয়রানি করা, বিনা অনুমতিতে ভিডিও করে পোস্ট করার একাধিক অভিযোগ উঠেছিল পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে, যেসব ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।
