প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে ধূলাবালি, রোদ, ঘামে ত্বকের ক্ষতি হওয়া যেন খুব সাধারণ ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব থেকেই সৃষ্টি হতে পারে মুখের ত্বকের বিভিন্ন চর্মরোগ।
জিনগত বৈশিষ্ট্য, বয়স,দীর্ঘসময় যাবত সূর্যের আলোর সংস্পর্শ; ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ এক কথায় বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কারণ এবং জীবনযাত্রার প্রভাবের ফলে নারীদের মুখে চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। এমন কিছু চর্মরোগের বিষয়ে জানা থাকলে প্রতিরোধ ও প্রতিকার-ও হয়ে উঠবে সহজ।
লুপাস ফ্যাশিয়াল র্যাশ
(দুই গাল ও নাকজুড়ে প্রজাপতি আকৃতির র্যাশ হয়)
কারণ
এটি একটি অটো ইমিউন ডিজিজ। কোনো কারণবশত দেহের ইমিউন সিস্টেম যখন সুস্থ কোষগুলোকে আক্রমণ করে, তখন লুপাস নামের এই চর্ম রোগ হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রভাবক যেমন জিনগত ত্রুটি, হরমোনম,, সূর্যের আলো, বিভিন্ন সংক্রমণ ও ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এই রোগ হয়।
প্রতিকার
এই রোগের প্রতিকার খানিকটা দুঃসাধ্য হলেও কিছু কিছু পদক্ষেপ এর ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। প্রখর রোদে বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। ইউভিবি এবং ইউভিএ রয়েছে এমন ধরনের সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। বাইরে বের হওয়ার সময় মুখ যতটা সম্ভব ঢেকে বের হতে হবে।
রোজাসিয়া
(মুখের ত্বক লালাভ হয়ে যায় এবং পুঁজ ভর্তি ছোট ছোট ফুসকুড়ি হয়)
কারণ
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক কিছু কিছু ঔষধ সেবন, দুশ্চিন্তা, গরম পানীয়, অ্যালকোহল ও মশলাদার খাবার খেলে; প্রচন্ড গরম,তীব্র সূর্যের আলো বা বাতাসের মধ্যে থাকলে এবং বেশকিছু প্রসাধনী এবং ত্বক ও চুলের যত্নে ব্যবহৃত পণ্য থেকে রোজাসিয়া হতে পারে।
প্রতিকার
দুশিন্তা কমাতে হবে, তীব্র বাতাস, গরম বা রোদ এড়িয়ে চলতে হবে, খাবারের ক্ষেত্রে উপরে উল্লেখ করা খাবারগুলো পরিহার করতে হবে, ত্বকের যত্নে সেনসিটিভ ত্বকের জন্য নির্দেশিত পণ্যগুলো ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।
ব্রণ
কারণ
জিনগত কারণ, ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল নিঃসৃত হলে, মৃত কোষ লোমকূপে আটকে থাকলে, শরীরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ হলে, পি. একনি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, পরিবেশের আর্দ্রতা বা বিভিন্ন ঔষধ সেবন বা ব্যবহারের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার ফলে মুখে ব্রণ হয়ে থাকে।
প্রতিকার
কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, ডাঃ মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন বলেন, “ব্রণে হাত দেওয়া যাবে না। দীর্ঘসময় রোদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ঔষধ গ্রহণ করতে হবে। স্যালিসাইলিক এসিড বিশিষ্ট ফেশওয়াশ দিয়ে দিনে দুইবার মুখ পরিষ্কার করতে হবে। অ্যালকোহল মুক্ত ক্লিনজার এবং ওয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।”
মেসতা
কারণ
গর্ভধারণ, জন্মনিরোধক পিল বা খিঁচুনিরোধক ঔষধ সেবন, প্রসাধনীর ব্যবহার, হরমোন থেরাপি, দীর্ঘসময় রোদের সংস্পর্শ বা বংশগত কারণে মেসতা হতে পারে। আবার যারা রান্নাঘরে চুলার আঁচে
প্রতিকার
প্রখর রোদ এড়িয়ে চলতে হবে। বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই আয়রন অক্সাইড এবং এসপিএফ ৩০- এসপিএফ ৫০ বিশিষ্ট সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে (প্রতি ২ ঘন্টা পরপর)। আক্রান্ত স্থানে জ্বালাপোড়া হয় এমন সাবান ব্যবহার করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জন্মনিয়ন্ত্রক ঔষধ সেবন ত্যাগ করতে হবে এবং ত্বকে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধের পরামর্শ নিতে হবে।
ছুলি
(ত্বক লাল হয়ে যায় এবং চুলকানি হয়)
কারণ
সাধারণত ত্বক আর্দ্রতা ধরে রেখে ব্যাকটেরিয়া ও বিভিন্ন অ্যালার্জেন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। কিন্তু জিনগত ত্রুটির কারণে ত্বকের এই স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে যায় এবং এই চর্মরোগ হয়।
প্রতিকার
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক মোঃ রায়হান উদ্দিন বলেন, “দিনে দুইবার মুখে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে, এতে করে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। যেসব কারণে ছুলি বেড়ে যায়, যেমন স্থূলতা, দুশ্চিন্তা, ঘাম, সাবানের ব্যবহার বা ধুলা, এই বিষয়গুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।”
গোসলের ক্ষেত্রে যতটা কম সময়ে সম্ভব সেরে ফেলতে হবে সর্বোচ্চ ১০-১৫ মিনিট। সাবান নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই মৃদু ক্ষারযুক্ত, ডিওডোরেন্ট ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল জাতীয় সাবান ব্যবহার করতে হবে। অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি ছুলির ব্যাপকতা রোধ করার জন্য ‘ব্লিচ বাথ’ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com
