নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপ্রধান মো. আবদুল হামিদের আহ্বানে বঙ্গভবনে সংলাপে বসেছে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
সোমবার বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে আট সদস্যের প্রতিনিধি দলের সাতটি গাড়ি বঙ্গভবনে প্রবেশ করে। বিকাল ৪টার পর শুরু হয় সংলাপ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ, সালমা ইসলাম, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধী বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরেরে ১৪ ফেব্রুয়ারি। নতুন কমিশন গঠনের জন্য সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল রাজনেতিক দলগুলোর মতামত জানতেই রাষ্ট্রপতির এ সংলাপ।
গত ২০১৬ সালের সংলাপে জাতীয় পার্টির রাষ্ট্রপতির কাছে ৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল। এবারও তারা রাষ্ট্রপতিকে একটি লিখিত প্রস্তাব দেবে বলে জানা গেছে।
সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাথে সংলাপের একদিন পরই বুধবার রাষ্ট্রপতি আলোচনায় বসবেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সঙ্গে। এরপর ২৬, ২৭ ও ২৯ ডিসেম্বর আরো ৭টি দলের এর সঙ্গে সংলাপ রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
সাংবিধানিক সংস্থা ইসির সদস্যদের নিয়োগে আইন স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও না হওয়ায় প্রতিবারই ইসি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভেদ তৈরি হয়। জটিলতা এড়াতে গত দুবার সার্চ কমিটির ব্যবস্থা হলেও বিতর্ক থামেনি।
মো. জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ২০১১ সালে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সার্চ কমিটি গঠন করেন। পরে সেই সার্চ কমিটি নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি প্যানেল প্রস্তাব করে। রাষ্ট্রপতি সেই প্যানেল থেকে একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং চারজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন।
জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আসা আবদুল হামিদও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসছেন।
সর্বশেষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ করেন। এক মাসের এই সংলাপে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৩১টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়।
বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা জানান, এবার এক মাস ধরে এই সংলাপ নাও হতে পারে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে কম সময়ে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ করবেন।
“প্রথমদিকে একটি করে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন রাষ্ট্রপতি। পরে এক দিনে একাধিক দলের সঙ্গেও আলোচনা হবে।”
সংলাপ শেষে সার্চ কমিটি গঠন করার পর সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপন দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ওই কমিটির কাজের সাচিবিক দায়িত্বও থাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের হাতে। সার্চ কমিটির সদস্যরা নতুন নির্বাচন কমিশনারদেনর নাম প্রস্তাব করেন। তাদের মধ্য থেকে বেছে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
গত দুই কমিশনে পাঁচজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া এই ব্যক্তিদের সবার ক্ষমতা সমান হলেও সমন্বয়ের জন্য একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। তার আগেই নতুন ইসি নিয়োগ দিতে হবে রাষ্ট্রপতিকে।
