নড়াইলে কলেজ শিক্ষককে অপদস্ত করার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে মামলা দায়েরের পর তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
নড়াইল সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শওকত কবীর জানান, সোমবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে সোমবার দুপুরে মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শেখ মোরছালিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ১৭০ থেকে ১৮০ জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তারা হলেন মির্জাপুরের সৈয়দ রিমন আলী, মির্জাপুর বাজারের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী শাওন খান ও মধ্যপাড়ার মো. মনিরুল ইসলাম।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের এক ছাত্র ভারতের বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার বিতর্কিত এক বক্তব্য নিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার পরদিন কলেজে গেলে কিছু মুসলমান ছাত্র তাকে ওই পোস্ট মুছে ফেলতে বলেন।
এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস পুলিশে খবর দেন। এর মধ্যে ‘অধ্যক্ষ ওই ছাত্রের পক্ষ নিয়েছেন’ এমন কথা রটানো হলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। অধ্যক্ষ ও দুজন শিক্ষকের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে তাদেরও সংঘর্ষ বাধে।
ওই সময় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কলেজের ছাত্র ও স্থানীয়রা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়। ওই ঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও ফেইসবুকে আসে, যাতে পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়।
তখন পুলিশ ওই ছাত্রের সঙ্গে অধ্যক্ষকেও থানায় নিয়ে যায়। তবে অধ্যক্ষকে আটক করা হয়নি বলে জানান নড়াইল সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শওকত কবীর।
এ ঘটনায় সারাদেশে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে ঘটনাটি তদন্তে শিক্ষা দপ্তর একটি কমিটি করেছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছেন।
তবে ১৮ জুনের ঘটনার পর থেকে আর বাড়িতে থাকছেন না ওই শিক্ষক। তিনি নিরাপত্তাহীনতার ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী।
