Loading...

দৈহিক উচ্চতা স্থির নয়, রোজই একটু খাটো বা লম্বা

| Updated: June 28, 2022 18:32:52


(ছবি: দ্য ইকোনমিক টাইমস) (ছবি: দ্য ইকোনমিক টাইমস)

শিরোনাম দেখে চমকাতে হলো তো! তবে কথাটি কিন্তু ভারী সত্যি। এই যে পা থেকে মাথা অব্দি দেহের উচ্চতা বা দৈর্ঘ্য যাই বলা হোক না কেন, তা কিন্তু মোটেই স্থির নয়। প্রতিদিনই তা বাড়ে কমে। এই ঘুমের ঘোরেই লম্বা হতে পারেন আবার খাটো হতে পারেন। আশ্চর্য হবার কিছু নেই। প্রতিনিয়তই ঘটে যাচ্ছে এবং পরিমাণে সেটি খুব সামান্য বলে আমরা টের পাচ্ছি না।

দৈহিক উচ্চতাকে ইংরেজিতে বলা হয় 'স্ট্যাচার'। এটি পরিমাপ করা হয় কোনো মানুষ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার পায়ের তলা হতে মাথার উপর পর্যন্ত। তবে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থার চেয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় স্ট্যাচার বেশি হয়, যেটি ১ থেকে ৩ সেন্টিমিটার অব্দি বেশি হতে পারে। সাধারণত স্টাডিওমিটার দিয়ে এটি পরিমাপ করা হয়।

নৃতত্ত্ব হতে জানা যায়, নিগ্রো জাতিদের স্ট্যাচার সবচেয়ে বেশি হয়। স্বাভাবিক ভাবেই একই জাতির নারীদের থেকে পুরুষদের বেশি থাকে।

ত্রিশের পরে সবার উচ্চতা থিতু হয়ে আসে। এছাড়াও ব্যক্তি ভেদে হাঁটাচলা আর বসার ভঙ্গির বৈচিত্র্যে বয়ঃবৃদ্ধির সাথে সাথে স্থিতিস্থাপকতা শিথিলতায় পরিবর্তিত হতে থাকে। ফলে সময়ের সাথে সাথে হ্রাস গতি দেখা যায়। মোদ্দা কথা, মেরুদণ্ডের স্থিতিস্থাপকতার জন্যে স্ট্যাচারের হ্রাস-বৃদ্ধি। যাদের হাড় একটু শুকনো শুকনো তাদের স্ট্যাচার আরো কম।

মৃতের শরীরে পরীক্ষা করলে দেখা যায় প্রাথমিক অবস্থায় পুরুষের ক্ষেত্রে ১.৫ সেমি বেশি আর নারীর ক্ষেত্রে ২ সেমি। কিন্তু মৃত্যুর পরে যত সময় যায় ততই কমতে থাকে এই পা থেকে মাথার দূরত্ব।

২০ থেকে ২৫ বয়েসীদের মধ্যে স্ট্যাচার চোখে পড়ার মতো থাError! Hyperlink reference not valid.কে। ২৫ এর পরে প্রতিবছরে গড়ে ০.৬ মিলি মিটার করে কমতে থাকে। আবার দিনের বিভিন্ন সময়ে দেড় থেকে ২ সেমির মতো রকমফের ঘটে। ভোর বেলাতে স্ট্যাচার থাকে সবচেয়ে বেশি আর সন্ধ্যায় যদি মেপে দেখা হয় তাহলে ১.৫ সেন্টিমিটারের মতো কম দেখাবে।

এরকমটা হবার কারণ মেরুদন্ডের কশেরুকার সাথে পৃষ্ঠীয় অঞ্চলের পেশির বন্ধনের স্থিতিস্থাপকতার তারতম্য। মেরুদন্ড ৩৩টি কশেরুকা বা ছোট ছোট হাড় দিয়ে তৈরি। যেটি গলা হতে নিতম্বদেশ অব্দি বিস্তৃত। প্রতি দুটি কশেরুকার মাঝে থাকে তরুণাস্থি কলা নির্মিত ভার্টেব্রাল ডিস্ক, যেটির কারণেই মেরুদন্ড নমনীয় হতে পারে। বলা যায়, বেয়ারিংয়ের মতো কাজ করে।

রাতের যেই সময়টায় আমরা ঘুমিয়ে থাকি সেসময় নিশ্রান্ত দেহ কোনো ধরণের চাপ অনুভব করে না, তাই সোজা হয়ে শুয়ে থাকতে বলা হয়। এতে করে ভার্টিব্রাল ডিস্কগুলি সর্বোচ্চ প্রসারিত ও নির্ভার থাকতে পারে। এজন্য ঘুম থেকে উঠবার পরে যদি একটি পরিমাপ নেয়া হয়, তাহলে সেটি ব্যক্তির গড় উচ্চতা হতে সেমি দুয়েক বেশি দেখাবে।

(ছবি: ম্যানুফ্যাচুরা ফালামো)     

তবে আনন্দের কথা হলো, কেউ যদি নিজের এই উচ্চতা ধরে রাখতে চান, তার রাত্রে ভালো ঘুম আর বিছানায় একটু উন্নতমানের ম্যাট্রেস রাখা উচিত। এতে করে মেরুদন্ড তার জুতসই অবস্থানে থাকতে পারে। এই জন্যে হাইপো এলার্জেনিক ধরণের একপ্রকার ম্যাট্রেস রয়েছে, যার রয়েছে ঢেউ খেলানো জমিন। এটি শরীরকে এমন ভাবে ধরে রাখে যাতে ঘুম আরামদায়ক হয়।

তাই আয়েসি ঘুম আর মেরুদন্ডের যত্নে বদলে ফেলতে পারেন ঘরের জাজিম!

সুস্মিতা রায় বর্তমানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজে ৪র্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

susmi9897@gmail.com

 

Share if you like

Filter By Topic