আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার এ উপসংহারে পৌঁছেছে আর্থিক খাতের এ আন্তর্জাতিক সংস্থা। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
করোনাভাইরাস মহামারীর ধাক্কার পর দক্ষিণ এশিয়ায় নিত্যপণ্যের দাম একটি মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠছিল।
এর মধ্যে ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং পশ্চিমা অবরোধ বিশ্ব বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মত ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে জানুয়ারিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। যদিও সরকারের এ হিসাব নিয়ে অর্থনীতিবিদদের অনেকের সংশয় আছে।
২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতিকে ৫ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে বেঁধে রাখার পরিকল্পনা করলেও গত অগাস্টের পর থেকে তা বাড়তির দিকে।
তবে মহামারীর ধকল সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ দ্রুত যেসব কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে, সেজন্য সরকারের প্রশংসা করেছে আইএমএফ।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারীর সঙ্কট যখন শুরু হয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি তখন স্থিতশীল অবস্থাতেই ছিল। লকডাউনের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাজ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। সরকার তখন ২৮টি প্যাকেজের মাধ্যমে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে, যা দেশের মোট জিডিপির ৬ শতাংশের সমান।
পাশাপাশি কম গুরুত্বপূর্ণ খাতের দৈনন্দিন ব্যয় কমিয়ে আনা এবং দ্রুত দেশের অধিকাংশ মানুষকে করোনাভাইরাসের টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়গুলোও উল্লেখ করা হয়েছে আইএমএফ এর প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনগুলো তুলে ধরে সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০১০ সালের পর থেকে তা গড়ে ৫ শতাংশের উপরে থাকছে। এর ফলে দারিদ্র্যের হার ধীরে ধীরে কমে আসছে, বাড়ছে শিক্ষা আর স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ।
এর এই সাফল্যের পথ ধরেই ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নয়নের স্বীকৃতি পেয়েছে বলে মনে করছে আইএমএফ।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের আর্থিক নীতি গত কয়েক বছরে সফলভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে, জিডিপির তুলনায় ঋণের হারও তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে।
আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোয় এ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারের প্রণোদনা তহবিলের বাস্তবায়ন এবং সঙ্কুলানমুখী মুদ্রানীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মহামারীর শুরুর ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে গিয়েছিল ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে, যা তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম। এরপর ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হওয়ার হিসাব দেয় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে। তবে বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে এবার বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে।