আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ। চারিদিকে যেনো সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। রমনার বটমূল থেকে সম্মিলিত কন্ঠে ভেসে আসছে নূতনের গান। আর ঐ যে ঐদিকটায় চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে কারা যেন মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করেছে।
এইতো সেদিনও ফাঁকা পড়ে থাকা বিশাল জায়গাটা জুড়ে হরেক জিনিসের মেলা বসেছে। কত কি রয়েছে সেই মেলায়, বিশেষ করে মাটির তৈরি জিনিসগুলো দেখলে যেনো চোখ জুড়িয়ে যায়। মেলা থেকে এবার একটা শখের হাঁড়ি না কিনলে কি চলে!
ব্যবসা পাড়াতেও বেশ উৎসব উৎসব ভাব। পুরনো বছরের হিসাব-নিকাশের খাতা গুটিয়ে হালখাতা খোলা হয়েছে।
এ যেন বাঙালির চিরাচরিত ঐতিহ্য। নতুন বছরের আগমনে অর্থাৎ বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে ধর্ম, বর্ণ, বয়স নির্বিশেষে সকলেই বর্ষবরণের উৎসবে মেতে উঠে।
এতো গেলো আমাদের দেশের বর্ষবরণের কথা। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যতায় একেক দেশের বর্ষবরণের চিত্র একেক রকমের হয়। আনন্দ উৎসবের পাশাপাশি বিশেষ বিশেষ প্রথা পালিত হয় নানা দেশে।
ভারত
এক বৃদ্ধের আদলে কুশপুত্তলিকা তৈরি করে তা নতুন বছরের প্রথম প্রহরে অর্থাৎ মধ্যরাতে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই কুশপুত্তলিকা বিগত বছরের দুঃখ, শোক, না পাওয়া আর জীর্ণতার এক প্রতীক মাত্র। আর পুড়িয়ে ফেলার অর্থ হচ্ছে পুরনো যাতনাকে মুছে ফেলে নতুন শুভ সময়ের আগমনকে স্বাগত জানানো।
স্পেন
বারোটি আঙুর খেয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। বারোটি আঙুর বছরের বারো মাসকে নির্দেশ করে। তবে হ্যাঁ, রাত বারোটা বাজার ঠিক এক সেকেন্ড পূর্বে ঐ এক সেকেন্ডের মধ্যেই বারোটি আঙুর মুখে পুরে একসাথে খেয়ে ফেলতে হবে (কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার)। যদি কেউ এই কাজে সফল হয় তাহলে স্পেনের ঐতিহ্য আর বিশ্বাস অনুযায়ী নতুন বছর সেই ব্যক্তির জন্য খুব সাফল্যমন্ডিত হবে।
গ্রীস
আমাদের দেশে পিঁয়াজকে কেবলমাত্র রান্নাবান্নার একটি উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও গ্রিসে নতুন বর্ষবরণে এটিকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মানা হয়। নববর্ষের প্রথম দিন বাড়ির মূল দরজার বাইরে পিঁয়াজ ঝুলিয়ে রাখা হয়। বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় সবাই এই ঝুলিয়ে রাখা পিঁয়াজে মাথা স্পর্শ করে বাইরে বের হয়। কারণ তারা বিশ্বাস করে এতে করে তাদের জীবনে সুসময় আসবে।
জাপান
জাপানে বৌদ্ধ মন্দিরে ঘন্টা বাজিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়। একবার বা দুইবার নয়, লাগাতার মোট ১০৮ বার ঘন্টা বাজানো হয়। বৌদ্ধ ধর্ম অনুযায়ী, এই সংখ্যা মানুষের ইচ্ছে এবং দুঃখের কারণসমূহকে নির্দেশ করে। বিশ্বাস করা হয় ১০৮ বার ঘন্টা বাজানোর ফলে মানুষের মন থেকে নেতিবাচক অনুভূতি এবং মনোভাব দূর হয়ে যাবে।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com
