দৃঢ় মানসিকতায় এগিয়ে যান


সোফিয়া নুর | Published: August 21, 2021 13:22:46 | Updated: August 21, 2021 17:14:03


ছবিঃ ইন্টারনেট

বটগাছ শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে ছায়া দিয়ে চলে মানুষকে। বটগাছের এই বছরের পর বছর ঠাঁয় দাড়িয়ে থাকার সময়ে রোদ ওঠে, বৃষ্টি পড়ে, মৃদুমন্দ ঝড় বা শৈত্যপ্রবাহ হয়, অচেনা অজানা অসংখ্য মানুষ বটগাছের নিচে এসে দাড়ায়, চা-সিগারেটের মহরত চলে বটগাছের ছায়ায়, আরো কত কী! তবে বটগাছের সবচেয়ে বেশি বিমূর্ত শিক্ষা বোধ করি আমাদেরকে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবার প্রেরণা।

জীবনে চলার পথে এমন শক্ত মানসিকতা জরুরি। তা নাহলে অল্প-বিস্তর প্রতিকূলতায় ভেঙে পড়বে মন, কাজ করবার ইচ্ছে কমে যাবে একেবারেই। কীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব এই দৃঢ় মানসিকতা?

সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ একটি গবেষণায় দেখিয়েছে, মানসিক দৃঢ়তা কীভাবে সাফল্যকে কাছে টেনে আনতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিকভাবে পীড়াদায়ক বা অপ্রীতিকর কিছু হলে মানসিক দৃঢ়তা শুধু অবস্থার সাথে মানিয়ে নিতেই চেষ্টা করে না; বরং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে এবং নতুনভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। মানসিকভাবে দৃঢ় ব্যক্তিরা নিজের জীবনের চাবিকাঠি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেন এবং অন্য কিছু দ্বারা প্রভাবিত কম হন। যেকোনো পরিস্থিতিতে মানুষের সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম হন। এই গবেষণার পরিসংখ্যান দেখিয়েছে যে, বংশগতভাবেও এই শক্ত মানসিকতার অধিকারী হওয়া সম্ভব।

ইতিবাচক ব্যাপার হলো, আপনার মস্তিষ্ক দীর্ঘসময় ধরে কোনোকিছুর সাথে অভ্যস্ত থাকলে তার অনেকটা প্রবণতা চলে আসে ওই একই কাজ করার। আপনি যদি মানসিকভাবে শক্ত হয়ে কাজ করার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন, তাহলে আপনার মস্তিষ্ক সেভাবে একসময় কাজ করবে, যা আপনার জন্য অনুকূল।

দৃঢ় মানসিকতা অনেকটা মনের অবস্থার উপরেও নির্ভরশীল। ধরুন, আপনার মনের অবস্থা ভালো নয়, তবে কি সব কাজ ছেড়ে দিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেবেন আপনি? কঠিন সময়ে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারাটাও দৃঢ় মানসিকতার অন্তর্ভূক্ত। আপনার যেকোনো সাফল্য অর্জনে এই মানসিকতা থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা আপনার জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

কীভাবে গড়ে তোলা যায় এ মানসিকতা? দিনের কোনো সময় যদি খারাপ যায়, তাহলে সেটা কোনো বন্ধু বা কাছের কারো সাথে আলাপ করে নেয়া যায়। খারাপ লাগলে সাহায্য নেয়া যেতেই পারে, এতে করে সমস্যা দ্রুত চলে যায়। অনেকসময় শারীরিক বা মানসিক চাপের কারণে আমরা সোজা উপায়ে চিন্তা করতে পারি না এবং প্রায় ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকি।

ভয়ংকর সমস্যায় পড়লে সেটা নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে যেকোনো সমস্যা আগে নিজে সমাধান করার চেষ্টা করা এবং দরকার পড়লে ব্যক্তিদ্বন্দ্বকে পাশ কাটিয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেয়াটাও আপনার শক্ত মানসিকতার পরিচয় দেয়।

ধরুন, আপনি ধূমপান করেন না। আপনাকে জোর করে ধূমপান করতে বলা হলে কি আপনি করবেন?

নিজের জন্য ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত না নেয়াটা আপনার আত্মমর্যাদার প্রকাশ ঘটায়। আমরা কতটা দৃঢ়ভাবে না বলতে পারি সেটাও দৃঢ় মানসিকতার পরিচায়ক। আপনি নিজের জন্য অনুকূল কিছু বেছে নিলে সেটা আপনার জন্য সবদিক দিয়েই ভালো হবে।

নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি নিজের পছন্দকে কতটা গুরুত্ব দেন? নিজের সত্যিকারের অনুভূতিগুলো মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের কাছ থেকে পাওয়া আচরণ যদি আপনার ভালো না লাগে, সেটা স্পষ্টভাবে বলে দিন। আপনার পছন্দ অনুযায়ী বেছে চলুন, আপনার ইচ্ছাকে বেশি গুরুত্ব দিন, এতে করে আপনার যেকোনো ঘটনা মেনে নিতে সহজ হবে। আর মেনে নিয়ে খুশি থাকাটা আপনার দৃঢ় মানসিকতা তৈরিতে সাহায্য করবে।

কষ্ট পেলেও লুকিয়ে রাখাটা কি আদৌ দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দেয়? আমরা অনেক সময় আমাদের খারাপ লাগার কথাগুলো বলতে পারি না, কিন্তু খারাপ লাগাটা যদি আপনি প্রকাশ করতে পারেন, তবে সেটা আপনার স্বচ্ছ মিথস্ক্রিয়ার উদাহরণ। নিজের মনের ভার চেপে না রেখে সরাসরি অপর মানুষটির সাথে কথা বলে দেখুন, এবং যদি আপনার কাছে ভালো না লাগে, বিষয়টি জানান। দিনশেষে আপনার জন্য সব সিদ্ধান্ত কিন্তু আপনাকেই নিতে হবে, কিছু বেছে নিলে আপনাকেই বেছে নিতে হবে, কোন পথে হাঁটবেন- সেটা ঠিক করবেন আপনি নিজেই। আপনার জন্য অপ্রতিকূল কোনো রাস্তায় আপনি হাঁটলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার আপনি নিজেই হবেন।

মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকুন এবং বিফল হলেও বারবার চেষ্টা করুন।

সোফিয়া নুর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী।

sofiautilitarian@gmail.com

Share if you like