রাজধানীতে বাড়ি নির্মাণে নকশা অনুমোদন পেতে হলে প্রত্যেক বাসা-বাড়িতে অন্তত দুটি সেপটিক ট্যাংকের ব্যবস্থা রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
এক্ষেত্রে আইন ভেঙে অর্থাৎ সেপটিক ট্যাংক বাদ দিয়ে রাজধানী উন্নয়ন করপোরেশনকে (রাজউক) বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
রোববার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আমাদের করণীয় শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ব্ক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগরীর ৯৯ শতাংশ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে আইন ভেঙে জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা শহরে অপরিকল্পিতভাবে আইন ভঙ্গ করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমরা অনেক উন্নয়ন কাজ করছি। এটা আমি করেছি, আপনি করেছেন- এই করেছে, সেই করেছে।
সবার জন্য ক্লিয়ারলি আমি কথাটা বলি, একটি বাড়ির নকশা অনুমোদন দিতে হলে পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য অবশ্যই অন্তত দুইটা সেফটি ট্যাংক থাকতে হবে।''
তিনি বলেন, একসময় সরকারের পরিকল্পনা ছিল দাশেরকান্দির স্যুয়ারেজ প্ল্যান্টের সঙ্গে পুরো ঢাকা শহরের পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থার সংযোগ তৈরি করা, এখন যেটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে সরকারের বিকল্প পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এলজিআরডিমন্ত্রী বলেন ''যেমন প্রত্যেকটা বাড়িতে একটি করে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকবে। সেখান থেকে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ হয়ে যেটা অবশিষ্ট থাকবে, সেটা নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশন থেকে ময়লার গাড়ি সেটা ট্রিটমেন্ট প্লান্টে দিয়ে আসবে।
কর্মশালায় রাজধানী ঢাকাকে বসবাস উপযোগী করতে হলে নিজের উদ্যোগে স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি ঢাকার বাড়িগুলোর বর্জ্য গুলশান, বারিধারা বা অন্য কোনো খালে গিয়ে পড়ায় এসব জায়গায় মাছের বদলে মশার চাষ হচ্ছে বলে জানান তিনি।
''অথচ প্রত্যেকটি বাড়িতে আধুনিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলে ওই প্ল্যান্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধন করে ময়লা পানি ড্রেনে বের করে দেবে; ওই পানি লেক কিংবা নদীতে গেলে আর পরিবেশের ক্ষতি হবে না, যোগ করেন তিনি।
একটি বাড়ির জন্য এ প্ল্যান্ট বসাতে ১৫ লাখ টাকার মত খরচ পড়বে বলে জানান মেয়র।