শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের গুলি ও লাঠিপেটার ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করতে বলার একদিনের মাথায় শনিবার দুপুরে উপাচার্যের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের কাছে এই বিবৃতি আসে।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
উপাচার্যের স্বাক্ষর ও তারিখ সম্বলিত বিবৃতিটি সাদা কাগজে এসেছে এবং এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাড ব্যবহার করা হয়নি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এটি উপাচার্য মহোদয়ের বিবৃতি।
বিবৃতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাড ব্যবহার করা হয়নি কেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার বলেন, সিলেটে সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। এ কারণে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাঠাতে দেরি হচ্ছে। তবে যে বিবৃতিটি গণমাধ্যমের কাছে পৌঁছেছে সেটি উপাচার্য স্যারের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের শিক্ষার্থীরা। এর জেরে ১৬ জানুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠির পাশাপাশি কাঁদুনে গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ।
এরপর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন; এক পর্যায়ে তারা আমরণ অনশনে বসেন। ২৬ জানুয়ারি সেই অনশন ভাঙেন শিক্ষার্থীরা। অনশন ভাঙলেও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা।
এর মধ্যেই শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সিলেট যান এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকদের সাথে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন এই ঘটনা আপনার নির্দেশে ঘটুক, আর না ঘটুক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হিসেবে এর দায় দায়িত্ব আপনার ওপর এসে পড়ে। সে জায়গায় আমি হলে আমিও দুঃখ প্রকাশ করতাম। আপনি সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করবেন। উপাচার্য সেটাই করেছেন।
এই অবস্থার মধ্যেই দুপুরে আসা বিবৃতিতে উপাচার্য বলেন, আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ যারা আহত হয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।
উক্ত ঘটনার ধারাবাহিকতায় সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী যারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক অবস্থা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষা উপমন্ত্রীসহ সরকারের সব স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ সিলেটের সুশীল সমাজের সবাইকে এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে জানাই আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
"বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা নিরসনে মিডিয়া কর্মীদের যারা দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছেন, তাদেরকেও জানাচ্ছি ধন্যবাদ।"
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের এই প্রিয় প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা সম্ভব হবে, যোগ করা হয় বিবৃতিতে।