Loading...

দীর্ঘসময় প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়?

| Updated: April 17, 2022 11:34:27


দীর্ঘসময় প্রস্রাব আটকে রাখলে কী হয়?

স্বাভাবিক ছন্দপতন হলে হোক সে যন্ত্র বা মানুষের শরীর ঠিক বিগড়ে যায়, যেমন-দীর্ঘসময় ধরে প্রস্রাব আটকে রাখার বিষয়টা বলা যেতে পারে। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি মিটিং চলছে বা গণপরিবহনে যাত্রাকালে বা আশেপাশে কোনো টয়লেট ঠিক নজরে আসছে না-এমন কারণে হঠাৎ কখনো বেশ খানিকটা সময় প্রস্রাব আটকে রাখতে হয় এবং সেই সাথে অস্বস্তিবোধ হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রবণতার ফলে শরীরের মূত্রথলীর উপর যে বাড়তি চাপ পড়ে তা খুব সহজেই মূত্রতন্ত্রের নানা রকম অসুখের সাথে পরিচিতি ঘটায়। বিষয়টি কি তবে স্বাস্থ্যের জন্য খুব হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়?

শরীরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি এবং রক্তের বর্জ্য বের করে দেওয়ার জন্য প্রস্রাবের বেগ আসে। দেহের মূত্রথলি সাধারণত এক থেকে দুই কাপ মূত্র ধারণ করতে পারে। এমনটি নয় যে মূত্রথলী মূত্রে পরিপূর্ণ হয়ে গেলেই বেগ অনুভব হয়। ব্রেইন, পেশী এবং স্নায়ুর সিগন্যালিংয়ের এক জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হয়। এটি শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে থাকে। এতে মানুষের ইচ্ছা বা অনিচ্ছার কোনো যোগসাজশ নেই।

চিকিৎসকদের মতে, গড়ে প্রতি তিন ঘন্টায় একবার করে প্রস্রাব করা উচিত। সেই হিসেবে বললে দিনে গড়ে আট বার। তবে বয়সভেদে এবং একজন ঠিক কতটা পানি বা তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করছে তার উপর নির্ভর করে প্রস্রাবের বেগ।

প্রস্রাবের বেগ অনুভব করার পর তৎক্ষণাৎ ওয়াশরুম পর্যন্ত যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়টুকুই প্রস্রাব আটকে রাখার সময় হওয়া উচিত।

ইউরোলজি কেয়ার ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, কোনো কারণবশত হঠাৎ কোনো একদিন প্রতিকূল এক অবস্থায় সর্বোচ্চ ৬ ঘন্টা পর্যন্ত প্রস্রাব আটকে রাখলে তা মূহুর্তেই শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি করবে না। তবে বেগ আসার পরেও প্রায়ই প্রস্রাব আটকে রাখলে তা অবশ্যই স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হবে না। সেক্ষেত্রে কী কী প্রভাব পড়তে পারে শরীরের উপর?

বিশেষজ্ঞদের মতে প্রায়শ দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রস্রাব আটকে রাখার প্রবণতার ফলে মূত্রথলীর পেশীসমূহ ধীরে ধীরে দূর্বল হয়ে যায়। ফলে সঠিক চাপ প্রয়োগ করে প্রস্রাবের সময় মূত্রথলী থেকে পুরোপুরি মূত্র নিঃসৃত হয় না।

মূত্রনালীতে অনেকসময় নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। নিয়মিত প্রস্রাব না করার ফলে এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মূত্রথলীতে চলে যেতে পারে এবং সংক্রমণের সমূহ সম্ভাবনা দেখা দেয়।

আবার মূত্রথলী ইউরেটারের মাধ্যমে কিডনির সাথে সংযুক্ত থাকে। মূত্রথলীতে বাড়তি চাপের কারণে মূত্র কিডনিতে ফিরে আসতে পারে এবং কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কিডনি শরীরের জন্য ক্ষতিকারক বর্জ্যসমূহকে পৃথক করে সেগুলোকে মূত্রথলীতে পাঠায় যা পরবর্তীতে প্রস্রাবের সাথে দেহের বাইরে চলে যায়। নিয়মিত মূত্রগ্যাগ না করার ফলে শরীরে এই ক্ষতিকর বর্জ্যসমূহের মাত্রা বেড়ে যায় এবং কিডনির উপর বাড়তি চাপ পড়ে।

খুব বিরল হলেও দীর্ঘসময় প্রস্রাব আটকে রাখার ফলে অতিরিক্ত চাপের কারণে মূত্রাশয় ফেটে যেতে পারে।

ব্যাপারটা এমন নয় যে দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখলে তা একজনের প্রাণনাশের কারণ হয়ে উঠবে। তবে অবশ্যই জীবনে কিছু বাড়তি শারীরিক জটিলতা যোগ করবে।

 

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি  অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com

 

Share if you like

Filter By Topic