দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এক বছরে ৭৪৫০০০ মানুষের প্রাণ নিয়েছে: গবেষণা


এফই ডেস্ক | Published: May 18, 2021 10:11:12 | Updated: May 18, 2021 16:19:16


দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এক বছরে ৭৪৫০০০ মানুষের প্রাণ নিয়েছে: গবেষণা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যে দেখা গেছে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এক বছরে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।

এ জাতীয় প্রথম বৈশ্বিক গবেষণাটিতে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে হৃদরোগ ও স্ট্রোকে সাত লাখ ৪৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনটির বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী লোকজন সবচেয়ে বেশি এই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এই প্রবণতা আরও খারাপ হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডব্লিউএইচও।

গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ৩৫ থেকে ৪০ ঘণ্টা যারা কাজ করেন তাদের তুলনায় ৫৫ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে কাজ করা লোকদের স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে এবং হৃদরোগে মারা যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে ১৭ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে যৌথভাবে করা এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার কারণে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের প্রায় চার-তৃতীয়াংশ লোক মধ্য বয়স্ক অথবা বৃদ্ধ।

স্ট্রোক কিংবা হৃদরোগে মারা যাওয়া মধ্যবয়স্ক কিংবা বৃদ্ধদের মাঝে চার ভাগের তিন ভাগ মানুষই লম্বা সময় ধরে কাজ করতেন।

এই তুলনায় যারা কম সময় ধরে কাজ করেন তাদের জীবন আরও দীর্ঘায়িত হয়, কখনো কখনো কয়েক দশক পর তাদের মৃত্যু হয়।

গবেষণাটিতে মহামারীর সময়কাল অন্তর্ভুক্ত করা না হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, মহামারীর কারণে অর্থনীতির গতি কমে যাওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ি থেকে অনলাইনে কাজ করার কারণে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা ফ্র্যাংক পেগা বলেছেন, আমাদের কাছে থাকা কিছু প্রমাণ বলে রাষ্ট্রগুলো জাতীয়ভাবে লকডাউনে যাওয়ার পর থেকে কাজের সময় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

কাজ সম্পর্কিত সব রোগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা দায়ী বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।

তাদের কর্মীদের পেশাগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মুল্যায়নকালে নিয়োগকর্তাদের এই বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এক্ষেত্রে দৈনিক কাজের সর্বোচ্চ সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা বলে পেগা মনে করিয়ে দেন আরেকটি গবেষণার কথা, যেখানে বলা হয় কর্মঘণ্টা কম হলে কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়।

Share if you like