Loading...

দিল্লির নতুন অশুল্ক বাধায় ঢাকার আপত্তি

| Updated: February 22, 2021 19:39:00


ছবিঃ সংগৃহীত ছবিঃ সংগৃহীত

সম্প্রতি বাংলাদেশী পণ্য আমদানিতে ‘কান্ট্রি-অব-অরিজিন’(সিওও) সার্টিফিকেট অধিক হা‌রে যাচাই-বাছাই এবং এর সাথে একটি প্রশ্নপত্র জু‌ড়ে দি‌তে শুরু ক‌রে‌ছে ভারত। ভারতের নতুন এই পদ্ধ‌তি সাফটা চুক্তির লঙ্ঘন বলে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ।

ঢাকা একে নতুন এক ধরনের অশুল্ক বাধা বলে অভিহিত করে ব‌লে‌ছে এর ফ‌লে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি আরো বাধাগ্রস্ত হবে।

গত সাড়ে তিন বছরেও ভারত কর্তৃক আরো‌পিত ‘অ্যান্টি-ডাম্পিং' শুল্ক সংক্রান্ত সমস্যার কোনো যথাযথ সমাধানে পৌছুতে পারেনি দেশ দুটি। তাই বাংলাদেশ এ ব‌্যাপা‌রে তৃতীয়পক্ষের মতামত নেয়ার প্রস্তাব ক‌রে‌ছে।

গত ১৬-১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-ভারত বা‌ণিজ‌্য সংক্রান্ত যৌথ কার্যনির্বাহী দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিষয়ক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ এই প্রস্তাব দেয়।

অবশ্য, এ বিষয়ে দিল্লি কোনো সুস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শহিদুল ইসলাম এবং ভারতের পক্ষে সেদেশের বাণিজ্য অ‌ধিদপ্ত‌রের যুগ্ম সচিব অমিতাভ কুমার বৈঠকে নেতৃত্ব দেন।

প্রাথমিকভাবে দিল্লির তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকলেও দ্রুতই লিখিত জবাব আসবে বলে জানান শহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, "আমরা তাদের বলেছি যে আমরা সাফটার আইনের বাইরে যেতে পারবো না। অন্য কোনো আইনের অধীনে কিছু চাইলে তার দলিল আমাদের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়।"

পাটজাত পণ্যের ওপর ‘অ্যান্টি-ডাম্পিং’শু‌ল্কের ও দ্রুত সমাধান চেয়েছে বাংলাদেশ। সমাধানকল্পে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) সম্পর্কে অভিজ্ঞ তৃতীয় পক্ষের মতামত নেয়ার জন্যও প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ।

"আমরা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করতে চাই," দ্যা ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে জানান অতিরিক্ত সচিব।

এদিকে ভারত গত সেপ্টেম্বরে নতুন ‘কাস্টমস রুলস-২০২০’কার্যকর করেছে। দেশ‌টি কর্তৃক স্বাক্ষরিত সকল বাণিজ্য চুক্তির ক্ষে‌ত্রে শুল্ক সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় নতুন এ রুলস এর আওতায় প‌রিচা‌লিত হ‌বে।

এ নিয়মগুলোর ফলে ভারতে শুল্ক সু‌বিধা পাওয়া অগ্রাধিকারমূলক চুক্তিতে থাকা দেশগুলোর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

নতুন এই নীতি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (সাফটা), এশিয়া-প্যাসিফিক বাণিজ্য চুক্তি এবং ডব্লিউটিওর শুল্কমুক্ত কোটা-মুক্ত প্রকল্পের মতো আঞ্চলিক চুক্তিগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক। মূলত, এই তিনটি চুক্তির আওতায়ই বাংলাদেশ ভারতীয় বাজারে শুল্ক অগ্রাধিকার ভোগ করে থাকে।

কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় দিল্লি ইতোমধ্যে নানাবিধ বাধা সৃষ্টির মাধ্যমে শুল্ক অগ্রাধিকার গ্রহণে ব্যবসায়ীদের কার্যত নিরুৎসাহিত করতে শুরু করেছে। সিওও সার্টিফিকেট অধিকহা‌রে যাচাই এবং একই সাথে সার্টিফিকেট যাচাইয়ের নামে অধিক সংখ্যক দলিলপত্রও চাওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে আলোচনায় ভারতের এই অতিরিক্ত যাচাইবাছাইয়ের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ।           

বৈঠকে বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা বলেন, "প্রয়োজন মাফিক যাচাইকরনের অনুরোধ পাঠাতেই পারেন পা‌রে ভারত, তবে তার সংখ্যাটাও মাথায় রাখা প্রয়োজন।"

তিনি আরো বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাচাইকরনের অনুরোধের সাথে একটি প্রশ্নপত্র পাঠায় দিল্লি, যা সাফটা চু‌ক্তি অনুসারে গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি ঢাকা ব‌লে‌ছে সিওও যাচাইকরণ অনুরোধের সা‌থে যেন যাচা‌ইয়ের কারণ ও উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত পাটের সুতা, চট এবং ব্যাগের উপর টন প্রতি ১৯ ডলার থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে। বারংবার অনুরোধ আর আলোচনার পরও এই শুল্ক তুলে নেয়নি প্রতিবেশি দেশটি।

Share if you like

Filter By Topic