দিনাজপুরের দেশখ্যাত রসালো ও সুস্বাদু লিচু বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এবার; সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাওয়া চায়না-থ্রি ও বেদানা জাতের লিচু বিগত বছরের তুলনায় বিক্রি হচ্ছে তিনগুণ বেশি দামে।
আড়তদার ও ক্রেতারা বলছেন, চায়না-থ্রি জাতের প্রতি একশ লিচুর দাম ২ হাজার থেকে ২২শ টাকা, বেদেনা ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা ও বোম্বা জাতের লিচুর দাম ৩শ টাকা। অর্থাৎ একটা চায়না-থ্রি লিচুর দাম পড়ছে ২২ টাকা ও বেদানা লিচুর দাম পড়ছে ১২টাকা।
অথচ বিগত বছরে চায়না-থ্রি প্রতি একশর দাম ছিল ৭শ থেকে ৮শ টাকা, বেদানার দাম ছিল ৪শ থেকে ৫শ টাকা। বোম্বাই ও মাদ্রাজি জাতের একশর লিচু বিক্রি হয়েছে ২শ টাকায়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
দেশের সব চেয়ে বড় অস্থায়ী লিচুর বাজার দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দান। অস্থায়ী লিচু এ বাজার এখন ক্রেতা, বিক্রেতা ও পাইকারদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। দামে ক্রেতাদের মুখ ভার হলেও বাগানমালিক, পাইকার আর ব্যবসায়ীরা খুশি।
প্রতিদিন সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ভ্যানে করে এই আড়তে আসে লিচু। এখান থেকে মৌসুমি পাইকারদের মাধ্যমে লিচু চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
এ বাজারে কথা হয় মাহবুব হোসেন নামের এক ক্রেতার সঙ্গে। শহরের এ বাসিন্দা এই বাজার থেকে প্রতি বছরেই লিচু কিনে স্বজনদের জন্য পাঠান বলে জানালেন।
মাজবুব বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারের লিচুর বাজার দর অস্বাভাবিক। বিশেষ করে বেদানা ও চায়না-থ্রি লিচুর দাম তিনগুন বেশি; যা নাগালের বাইরে।
আরেক ক্রেতা শহরের কালিতলা এলাকার কানাই লাল একটু অভিমানের সুরে বললেন, সব জিনিসেরই তো দাম বেড়েছে, তাই লিচুতেও এর প্রভাব পড়েছে। গত বছরে যে লিচু প্রতি শ ৭শ টাকায় কিনেছি এবার সেই লিচু কিনতে হচ্ছে ২১শ থেকে ২২শ টাকায়।
আড়তদার সহিদুলসহ ও মাসুদ আলম জানান, বাজারে লিচুর সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে লিচুর ফলন এবার কম হওয়ায় দাম বেশি। কিন্তু দাম বেশি হলেও চাহিদা আছে।
আর বিগত বছরের তুলনায় এবার ভালো ব্যবসা হচ্ছে বলে বিক্রেতারা জানালেন।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক মাহাবুব রশিদ বলেন, এবার জেলায় সাড়ে ৫ হাজারের বেশি জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে। বেদানা ও চায়না-থ্রি জাতের লিচুর ফলন সামান্য কম হলেও গড়ে লিচুর উৎপদন ৩০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি হবে।