Loading...
The Financial Express

তেহরানে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন 

| Updated: March 27, 2022 21:38:03


জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ. এফ. এম. গওসেল আযম সরকা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ. এফ. এম. গওসেল আযম সরকা

ইরানের রাজধানী তেহরানে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে ৫২তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে গতকাল ২৬ মার্চ শনিবার  অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে  মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহিদদের স্মরণে পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা।  

আর এর মধ্য দিয়ে করোনার চাপিয়ে দেওয়া হিমনিদ্রা থেকে জেগে উঠতে শুরু করে ইরান প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের আগমন ধ্বনিতে আনন্দ মুখরিত হয়ে উঠতে শুরু করে তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গন। গত ১৭ মার্চের পর এই প্রথম তেহরান দূতাবাসে বাংলাদেশি এক ঝাঁক শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্তু উপস্থিতি প্রাণে দোলা দেয় সবার।   

রাষ্ট্রদূত এ. এফ. এম. গওসেল আযম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনা পর্বের আগে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র উপপররাষ্ট্র মন্ত্রীর পৃথক পৃথক বাণী পাঠ করা হয়।  

আলোচনা পর্বে ইরান প্রবাসী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. কাজী ইকবাল নেওয়াজ এবং প্রবাসী প্রবীণ সাবেক সাংবাদিক এজাজ হোসাইন এ দিনটিকে ঘিরে তাদের স্মৃতিকথা শোনান। জনাব এজাজ হোসাইন স্বাধীন বাংলা বেতারের গর্বিত কর্মীদের অন্যতম। প্রবাসী সাংবাদিক সৈয়দ মূসা রেজা বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশ রক্ষার যুদ্ধ শুরু করার প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যক্ত করেন।  

অনুষ্ঠানে নিজের লেখা মর্মস্পর্শী গল্প পাঠ করেন ফেরদৌসী সুলতানা পারভীন ও তার স্বামী রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের সাংবাদিক গাজী আবদুর রশীদ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের সাংবাদিকবৃন্দ, এস এম মিজানুর রহমান, দূতাবাসের ইরানি কর্মকর্তা সাজ্জাদ জামাল বাছির ও মোহসেন রেজায়ীসহ আরো অনেকে। 

দূতালয় প্রধান ওয়ালিদ ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জানানো হয় যে  ইরানে নওরোজ বা নববর্ষের ছুটির মধ্যে পড়ায় দিনটি সীমিত পরিসরে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাংলা নববর্ষ এবং স্বাধীনতা দিবস ব্যাপক ভাবে পালন করা হবে বলেও  ঘোষণা দেওয়া হয়। 

রাষ্ট্রদূত এ. এফ. এম. গওসেল আযম  সরকার 

তেহরান দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর ড. জুলিয়া মঈন তাঁর আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধের নানা দিক বিশেষ করে মায়েদের আত্মত্যাগের কাহিনি হৃদয়স্পর্শী করে তুলে ধরেন। সমাপনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এএফএম গাওসেল আজম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিসহ নানা দিক নিয়ে প্রাঞ্জল বক্তব্য দেন। 

সমবেত প্রবাসীদের একাংশ 

গোটা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুলে বাংলাদেশি শিশুদের কল-কাকলি। অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দূতাবাস প্রাঙ্গণে মুক্ত বিহঙ্গের মতোই নিজেদের জগত নিয়ে মেতেছিল শিশুরা। ইরানে বসন্ত শুরু হলেও আবহাওয়া হঠাৎ করেই বেশ শীতল হয়ে গেছে। তেহরানের বাইরে অনেক প্রদেশে অকাল তুষারপাত ও বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী তেহরানের তুষারপাত না হলেও বাতাসে বসন্তদিনের আরামের আমেজ নেই। তবে এ শীতলতা শিশুদের কাছে উপদ্রব হয়ে দেখা দেয়নি। বিনা বাধায় তারা  নিজেদের নিয়ে মেতে থাকে সারাক্ষণ।  সীমিত পরিসরের এ আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশি নারী-পুরুষ উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। 

অনুষ্ঠান শেষে দূতাবাসের তরফ থেকে বাংলাদেশি খাবার দিয়ে সবাইকে আপ্যায়নের আয়োজন রাখা হয়েছিল।   

Share if you like

Filter By Topic