মাদকের চোরাকারবার নিয়ন্ত্রণে আনতে কেবল ঢাকাতেই প্রায় সাড়ে তিন হাজার ‘মাদক ব্যবসায়ীর’ একটি তালিকা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান শুক্রবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এই তালিকায় যারা আছে, তাদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রেখে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগে মাদক কারবারিদের তালিক করে অভিযান চালানো হয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
গতবছরের শুরুর দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরই তিন হাজার মাদক কারবারির তালিকা তৈরি করেছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছিল। দেখা যাচ্ছে, গত দেড় বছরে সেই তালিকা আরও দীর্ঘ হয়েছে।
বাংলাদেশে শুরুর দিকে মাদক হিসেবে আফিম ও গাঁজাই চলত। গত শতকের আশির দশকে সেগুলো নিষিদ্ধ করা হয়। ওই সময়ে কোডিন মিশ্রিত কফ সিরাপ নিষিদ্ধ হওয়ার পর চোরাই পথে আসা ফেনসিডিল হয়ে ওঠে মাদকসেবীদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়।
প্রায় দুই দশক হল ফেনসিডিলের জায়গা দখল করেছে ইয়াবা। ফেনসিডিল মূলত আসত ভারত থেকে, আর ইয়াবা আসছে মিয়ানমার থেকে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ৫৬০ গ্রাম আইস এবং ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরবুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ৫৬০ গ্রাম আইস এবং ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরইয়াবা সহজে বহনযোগ্য বলে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৮ সালে মূলত ইয়াবা ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়েই মাদকের বিরুদ্ধে বড় অভিযানে নেমেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে কয়েকশ সন্দেহভাজন।
বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ওই ঘটনায় র্যাব-পুলিশকে ব্যাপক সমালোচনায় পড়তে হলেও সেই অভিযানেও ইয়াবা পাচার বন্ধ হয়নি। প্রায় প্রতিদিনই ইয়াবা ধরার খবর আসছে।
এর মধ্যে মহামারীর লকডাউনে মাদকের কারবারেও কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে গতবছর খবর দিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চোরাকারবারিরাও নতুন নতুন কৌশলে আবার সক্রিয় হয়েছে, দেশে এখন আলোচনা চলছে এলএসডি, আইসের মত মাদক নিয়ে, যেগুলো আগে এ দেশে কম প্রচলিত ছিল।
রাজধানীতে ৫৬০ গ্রাম মেথামফিটামিন মাদক ‘আইস’বা ক্রিস্টাল মেথ এবং ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের খবর জানাতেই শুক্রবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ে (উত্তর) সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান।
তিনি জানান, তাদের মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি সার্কেলর তিনটি দল বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এই অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
এরা হলেন- জাকারিয়া আহমেদ অমন (৩২), তারেক আহমেদ (৫৫), সাদ্দাম হোসেন (৩১), শহীদুল ইসলাম খান (৪৮) ও জসিম উদ্দিন (৫০)। তাদের কাছ থেকে আইস ছাড়াও ১২০০ ইয়াবা পাওয়া গেছে।
পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, বুধবার গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয়েছে। বাকিদের শুক্রবার পাঠানো হবে।
