দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহে প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমের পর ঢাকায় খানিকটা স্বস্তি নিয়ে এল বৃষ্টি।
বুধবার সকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা বর্ষণ শুরু হয়। শ্রাবণের আকাশ দিনের আলো ঢেকে তুমুল বর্ষণ না ঝরালেও বেলা ১২টার দিকে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যায়।
বর্ষা মওসুমে আগামী দুদিন এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ার আভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে অনেক জায়গায় বৃষ্টি নেই। কোথাও হালকা বৃষ্টি হয়েছে। এতে অস্বস্তিকর গরম ছিল বেশ। বুধবার স্বল্প সময়ে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি তাপমাত্রা কিছুটা কমাবে এবং সাময়িক স্বস্তি আনবে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে ।
সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
গত সপ্তাহে মাঝারি তাপপ্রবাহের পর রাজশাহী, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর এবং নীলফামারী জেলায় এখন মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কিছু কিছু এলাকা থেকে তা প্রশমিত হতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলছেন, জুলাইয়ের ৫ তারিখ থেকে কোথাও মৃদু তাপপ্রবাহ থেকে গরমের এমন আবহাওয়া দুই সপ্তাহ ধরে চলছে। ভারি বর্ষণ না হওয়া পর্যন্ত ভ্যাপসা গরমের এমন পরিস্থিতির মধ্যেই থাকতে হবে।
সাধারণত জুলাই মাসের তাপপ্রবাহের সময়কালের সঙ্গে তুলনা করে এ আবহাওয়াবিদ বলেন, গত দশ বছরে ২০১১, ২০১৪ ও ২০২১ সালে টানা কয়েক দফা তাপপ্রবাহ ছিল জুলাইয়ে। এবার দীর্ঘ সময় তাপপ্রবাহের সঙ্গে তীব্রতাও বেড়েছে।
“এবারের তাপপ্রবাহকেও তাই অস্বাভাবিক বলা যায়। ইতোমধ্যে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল এবার। কখনও কখনও কয়েকদিনের জন্য কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণে স্বস্তি আসতে পারে। তবে ভ্যাপসা গরমের এ দুর্ভোগ জুলাই-অগাস্ট পযন্ত থাকবে।”
তিনি জানান, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমনিতে তুলনামুলক বৃষ্টিপাত কম রয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ সময় রোদেলা দিন থাকবে। দিনের কোনো এক সময় বৃষ্টিপাত রয়েছে। বাতাসে বেশ জলীয় বাষ্প থাকলেও মেঘলা আবহাওয়ায় এ অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হচ্ছে।
