ঢাকা-সিলেট চারলেইন উন্নয়ন প্রকল্পে মহাসড়কের দুই পাশে সার্ভিস লেইন নির্মাণে ১০৫ শতাংশ খরচ বাড়িয়ে ৭ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
২০১৮ সালের অক্টোবরে সরকার ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৭২ লাখ টাকায় এ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন প্রকল্পটি ২০২১ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হলেও কাজ শেষ হয়নি।
উল্টো প্রায় ৪ হাজার ৯০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্প সংশোধন করা হল। সেইসঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
সংবাদ সম্মেলনে “ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প: সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেইন নির্মাণ” শীর্ষক সংশোধিত প্রকল্পের বিষয়ে জানানো হয়।
ব্যয় বাড়ার কারণ জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মামুন-আল-রশিদ বলেন, “মূলত ঢাকা (কাচপুর) থেকে তামাবিল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে যে ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে তার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।
“এই প্রকল্প সমীক্ষার আগে অধিগ্রহণকৃত জমির দাম দেড়গুণ দেওয়ার আইন ছিল। কিন্তু এরপর জমির দাম তিনগুণ করা হয়। মূলত জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে যায়।”
এ বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি জানান, ২০১৫ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহায়তায় একটি সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছিল।
তখন অষ্ট্রেলীয় ফার্ম স্ম্যাক (এসএমএসিকে) এবং সুইডিশ ফার্ম হিফ-হ্যাব (এইচআইএফ-এইচএবি) প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা পরিচালনা করে বলে জানান পরিকল্পনা কমিশনের এই সদস্য।
ওই সমীক্ষায় মহাসড়কটি নরসিংদীর বাগহাটা থেকে পশ্চিম দিকে পাঁচদোনায় আনা হয়েছিল। ওখান থেকে আবার পূর্ব দিকে মাধবদী নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আবার মাধবদী থেকে পশ্চিম দিকে পুরিন্দায় নেওয়া হয়।
মামুন-আল-রশিদ বলেন, “এর ফলে ওই সড়কটা ইংরেজি অক্ষর ‘এস’ এর আকার ধারণ করে। কিন্তু এই মহাসড়কটি ‘এস’ এর আকার ধারণ করায় ১০০ কিলোমিটার গতি নিয়ে যানবাহন চলাচল সম্ভব হবে না।
“তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কয়েক দফা বৈঠকের পর শেষ পর্যন্ত আবার দেশীয় প্রতিষ্ঠান বিসিএল এর মাধ্যমে সমীক্ষা করা হয়। নতুন সমীক্ষায় নরসিংদীর বাগহাটা থেকে সরাসরি পুরিন্দা পর্যন্ত নতুন লাইন নকশা করা হয়।
“এর ফলে নতুন এই সড়ক নির্মাণে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতেই প্রকল্পটির ব্যয় আরও বেড়ে যায়।”
প্রথম সমীক্ষায় ঢাকা-সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছিল ২৭০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার। আর জমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৯৮৬ দশমিক ৪৮ একর।
নতুন সমীক্ষায় দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে ২৬৫ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার। অধিগ্রহণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৭৮ দশমিক ৮০ একর। অর্থাৎ মহাসড়কের দৈর্ঘ্য কিছুটা কমলেও জমি অধিগ্রহণের পরিমাণ বেড়েছে ৩৯২ দশমিক ৩২ একর।
এডিবির অর্থায়নে ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরে গত বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়।
ভারত, বাংলাদেশসহ ছয় দেশ নিয়ে গঠিত দক্ষিণ এশিয়া উপ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) বাড়াতে সরাসরি সড়ক অবকাঠামো তৈরির উদ্দেশ্যে ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক চার লেইনে উন্নীত করছে সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, মঙ্গলবারের একনেক বৈঠকে সার্ভিস লেইন নির্মাণে সংশোধিত প্রকল্পটিসহ ৮ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা ব্যয়ের মোট ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৫১৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। প্রকল্প সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ১৬৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং বাকি ১২০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে।
একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে-
>> “‘৫জি’ উপযোগীকরণে বিটিসিএল এর অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন” প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৫৯ কোটি টাকা।
>> “সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প: জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক (এন-৪) ৪-লেইন মহাসড়কে উন্নতীকরণ” ৩য় সংশোধনী প্রকল্প। এর ব্যয় ৪৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা কমিয়ে ৬ হাজার ১৬৮ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
>> “১৫টি সরকারি হাসপাতালে হাসপাতাল ভিত্তিক চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা” প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
>> “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, খুলনা স্থাপন” প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয় ৫৫৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
>> “ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি বেইজড সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার, প্রটেকশন অ্যান্ড সুইম-সেইফ ফ্যাসিলিটিজ” প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয় ২৭১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
>> “বরগুণা জেলাধীন পোল্ডার ৪১/৬এ ও ৪১/৬বি পুনর্বাসন এবং বেতাগী শহরসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অংশ বিষখালী ও পায়রা নদীর ভাঙন হতে প্রতিরক্ষা” প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২৬ কোটি ৪৯ কোটি টাকা।
>> “ভোলা জেলার মুজিব নগর ও মনপুরায় উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তীর সংরক্ষণ (১ম পর্যায়)” প্রকল্প। এর ব্যয় হবে এক হাজার ৯২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
>> “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর-এ ২টি মডার্ন ফায়ার স্টেশন স্থাপন” প্রকল্প। ব্যয় ১২২ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
>> “স্মার্ট প্রি পেইমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ইন ডিস্ট্রিবিউশন জোন অব বিপিডিবি” প্রকল্প। ব্যয় ৬১৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
