সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ঢাকা-টাঙ্গাইল সেতু মহাসড়ক দিয়ে দূরপাল্লার বাস উত্তরবঙ্গ থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করছে। এসব বাসের যাত্রীরা অধিকাংশই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছেন ‘অতিরিক্ত ভাড়া’ গুণে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
মঙ্গলবার ভোর থেকেই এ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস চলাচল করতে দেখা গেছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল সেতু মহাসড়ক দিয়ে যানবাহনের চাপ বাড়েনি। মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে চলাচলকারী বাসে ‘কয়েকগুণ বেশি ভাড়া’ গুনতে হচ্ছে জানিয়ে আক্ষেপ করেন টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় যানবাহনের জন্য অপেক্ষায় থাকা ৪৫ বছর বয়সী ফরিদ।
তিনি চট্রগ্রামের বাঁশখালীতে কাপড়ের ব্যবসা করেন। ঈদের ছুটিতে এলেঙ্গার ইছাপুর গ্রামে বাড়ি এসেছিলেন তিনি।
ফরিদ বলেন, “এবাই বাইত্তে আইতে খরচ হয় ৫’শ টেকা আর এইবার আইলাম আমার খরচ হইচে ১৬’শ টেকা। কিন্তু কি আর কারার, বউ পোলাপান আছে। বাইত্তে তো আহন নাগবো তাই আইছিলাম।”
এদিকে চালকদের দাবি, করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনে দীর্ঘদিন বেকার থাকায় বাধ্য হয়ে বাস নিয়ে মহাসড়কে বের হয়েছেন তারা।
উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা সেবা লাইন পরিবহনের চালক তুলা মিয়া বলেন, “ভাই আর কতোদিন কামাই বাদ দিয়া বইয়া থাহন যায়, আমাগোও তো সংসার আছে, গাড়ি না চালাইলে সংসার চালামু কি কইরা।”
সিরাজগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আলিফ পরিবহনের চালক আব্দুল হাই বাবু বলেন, “ট্রাকে কইরা সোমানে মানুষ নিতাছে গাদাগাদি কইরা, তাগো করোনা নাই? বাসে তো আমরা গাদাগাদি কইরা যাত্রী নেই না। তাও খালি বাসের দুষ।”
সরকারি নিষেধ স্বত্ত্বেও দূরপাল্লার গাড়ি চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির বলেন, গত দুদিনে মহাসড়কে সরকারি আইন না মানার জন্য ত্রিশের অধিক গাড়ির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শতাধিক দূরপাল্লার যানবাহনকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
