দক্ষিণ এশিয়ায় ত্রিদেশীয় সফরের অংশ হিসেবে শনিবার ঢাকা আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড।
আগামী রোববার ঢাকায় অষ্টম যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ডায়ালগে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি ডনাল্ড লু, প্রতিরক্ষাসম্পর্কিত ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি অ্যামান্ডা ডরিও থাকছেন মার্কিন প্রতিনিধি দলে।
বাংলাদেশের পর ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলটি। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পাশাপাশিনাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গেও তারা বৈঠক করবেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধি ওনিরাপত্তার জন্য অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করতে এবং সম্পর্ককে আরো গভীর করতে কাজ করবেন তারা।
এমন এক সময়ে মার্কিন কর্মকর্তারা দক্ষিণ এশিয়া সফরে আসছেন, যখন ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন ঘিরে নতুন এক সঙ্কট তৈরি হয়েছে বিশ্বে। আর এই সঙ্কটে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি অবস্থান নতুন করে কূটনৈতিক মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বেশিরভাগ দেশকে।
ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে ভারত, বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেক দেশই এই বিরোধের মধ্যে স্পষ্ট কোনোঅবস্থান ঘোষণা করেনি। ফলে ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডের এবারের সফরে ইউক্রেইন প্রসঙ্গ স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপাওয়ার কথা।
বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও বাণিজ্য-বিনিয়োগের পাশাপাশি মানবাধিকার, গণতন্ত্র, নিরাপত্তার মত বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্র জোর দেবে।
অন্যদিকে, র্যাবের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় তোলার কথা এর আগে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের একটি ছোট দলের সাথে মত বিনিময়ে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের উপর গড়ে ওঠা মজবুত ও বহুমুখী সম্পর্ককে আরও গভীর করতে চায়।
এই সংলাপে আমরা জোরালো সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করব। যার মাধ্যমে বাণিজ্য, শ্রম ও বিনিয়োগ, মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তনের মত বৈশ্বিক বিষয়, মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিকের মত আঞ্চলিক বিষয় এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মত বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের পথ নির্দেশ করা যাবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের সাফল্যের গল্পে যুক্তরাষ্ট্রও দৃঢ় অংশীদার। এই সংলাপ এবং এ বছরের অন্যান্য কার্যক্রম এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এমন কাজে যুক্ত থাকার বিষয়ে আমাদের ইচ্ছার প্রকাশ ঘটাবে।