বন্ধুদের মাঝে কে কতটা ঝাল খাবার খেতে পারে তা নিয়ে অনেকসময় তর্কের খাতিরে ঘাম ঝরানো ঝাল খাবার খাওয়ার প্রতিযোগিতা হয়ে যায়। কাঁচামরিচ, নাগামরিচ, বোম্বাই মরিচসহ আরো কত জাতের মরিচ দিয়ে রান্না করা খাবার খেয়ে পাঙ্গা নিলেও ‘ড্রাগন’স ব্রেথ’ মরিচের নামটা থেকেই যেন ব্রহ্মতালু গরম করা ঝালের আন্দাজ করা যায়।
এই মরিচের খুব সামান্য পরিমাণ মুখ থেকে পেটে যাওয়ার আগেই নিমেষে প্রাণভোমরা উড়াল দিতে পারে। এ কি শুধুই কথার কথা, নাকি রয়েছে বাস্তবতা?
যুক্তরাজ্যে এই ‘ড্রাগন’স ব্রেথ চিলি পেপার’ মরিচের চাষ করা হয়েছে। মরিচের ঝালের মাত্রা পরিমাপের একককে বলা হয় স্কোভেল ইউনিট (মরিচের ঝালের জন্য দায়ী ক্যাপসাইসিনের পরিমাণকে নির্দেশ করে)। চিলি পেপার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, রান্নার ক্ষেত্রে সাধারণত যে কাঁচামরিচ ব্যবহার করা হয় তার স্কোভেল ইউনিট ২,৫০০-৮,০০০। আর ড্রাগন’স ব্রেথ চিলি পেপারের স্কোভেল ইউনিট ২৪,৮০,০০০!
ড্রাগন’স ব্রেথ চিলি পেপার খেলে কি হতে পারে তা সম্পর্কে জানার আগে এই মরিচের আদ্যোপান্ত সম্পর্কে জানার খানিকটা কৌতুহল থেকে যায়।
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাইক স্মিথ, যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের একজন কৃষক নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত বিজ্ঞানীদের সাথে যৌথ উদ্যোগে এই মরিচের চাষ করেন। তবে এমন মারাত্মক ঝাল মরিচ চাষ ‘উদ্দেশ্য’ হিসেবে ছিল না। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত চেলসি ফ্লাওয়ার শোতে ‘প্ল্যান্ট অব দ্য ইয়ার কন্টেস্টে’ একটি আকর্ষণীয় মরিচ গাছ হিসেবে উপস্থাপনের জন্য এই মরিচের চাষ করা হয়েছিল। বিজ্ঞানীদের খানিকটা ভুলে এমন মারাত্মক মরিচ গাছের উদ্ভব হয়।
স্মিথ দাবী করেন এই মরিচের ঝালের মাত্রা বর্তমানে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ডের রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বের সবেচেয়ে বেশি ঝাল মরিচ ‘ক্যারোলিনা রিপারের’ চেয়েও ২০০,০০০ স্কোভেল ইউনিট বেশি।
অন্যান্য যেকোনো মরিচ গাছের মতোই মাটিতে মোটামুটি আর্দ্রতায় এবং সূর্যের আলোয় এই গাছ বেড়ে উঠে। এই মরিচগুলো আকারে ছোট, প্রায় আধা ইঞ্চির মতো এবং আগুন লাল রঙের হয়। বাণিজ্যিকভাবে এই মরিচের চাষ করা হয় না।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নানা সময় মরিচ খাওয়ার প্রতিযোগিতা হলেও আজ পর্যন্ত কোথাও কোনো প্রতিযোগিতায় এই মরিচ দেওয়া হয়নি। সজ্ঞত কারণেই এমনটি করা হয়েছে।
ড্রাগন’স ব্রেথ চিলি পেপারে ঝালের মাত্রা এতোটাই বেশি যে কেউ এই মরিচ খেলে তাৎক্ষণিক অ্যানাফাইলেকটিক শকের (হঠাৎ করে রক্তচাপ কমে যায় এবং শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে শ্বাসরোধ হয়) কারণে মৃত্যুবরণ করবে।
দ্য নিউইয়র্ক ডেইলি পোস্টে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্মিথ বলেন, “আজ পর্যন্ত কেউই এই মরিচ চেখে দেখেনি। আমি শুধুমাত্র একবার জিহ্বার ডগায় মরিচটি ছুঁয়ে দেখেছিলাম তাও মাত্র ১০ সেকেন্ডের জন্য। এর সময়ের মধ্যেই আমার জিহ্বা প্রচন্ড রকমভাবে জ্বলতে শুরু করে এবং সময়ের সাথে সাথে এর মাত্রা বেড়েই যাচ্ছিল।”
চিকিৎসকদের মতে এই মরিচের তেল ‘টপিক্যাল অ্যানেসথেটিক’ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত ঝালের জন্য ত্বকে এক ধরনের অসাড়তার অনুভূতি তৈরি হয়, ফলে অ্যানেসথেশিয়ার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেসব রোগীদের অন্যান্য অ্যানেসথেটিক প্রয়োগের ফলে অ্যালার্জির সম্ভাবনা থাকে তাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com
