ডিজিটাল কমার্সের আওতায় এমএলএম ব্যবসা করা যাবে না


FE Team | Published: July 06, 2021 20:53:24 | Updated: July 07, 2021 15:39:33


ডিজিটাল কমার্সের আওতায় এমএলএম ব্যবসা করা যাবে না

ডিজিটাল ব্যবসা সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সরকার ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ প্রণয়ন করেছে। গত রোববার সেটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা হয়। এর আওতায় মার্কেটপ্লেসে বিক্রয়যোগ্য পণ্য ও সেবার তথ্য প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়, সাধারণ নিয়মাবলী, মার্কেটপ্লেসে পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপন, পণ্য ডেলিভারী, অগ্রিম পরিশোধিত মূল্য সমন্বয়সহ অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, যা গ্রাহকদের সহায়ক হবে।খবর বাসস-এর।


ডিজিটাল কমার্সের আওতায় নেশা সামগ্রী, বিস্ফোরক দ্রব্য বা অন্য কোন নিষিদ্ধ সামগ্রী বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। জুয়া বা অনলাইন বিটিং বা অনলাইন গেমবলিংয়ের আয়োজন কিংবা অংশগ্রহণ করা যাবে না। ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্টানসমূহ সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিত কোন ধরণের লটারির আয়োজন করতে পারবে না। মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বা নেটওয়ার্ক ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১ জারির বিষয়ে অবহিতকরন সংক্রান্ত সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। মঙ্গলবার অনলাইন প্লাটফর্মে আয়োজিত সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সভাপতিত্ব করেন।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকার বিষয়ে বলেন, পণ্য বিক্রেতা বা তার সাথে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ষ্টকে নেই কথাটি স্পষ্টভাবে পণ্যের পাশে লিপিবদ্ধ করতে হবে। নিত্যপণ্য ও খাদ্য সামগ্রীর বা সংখ্যায় প্রকাশ করা যায় না এমন পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে স্টকের পরিবর্তে এভেইলেবল ফর ডেলিভারি কাথাটি লেখা থাকতে হবে। অগ্রিম মূল্য আদায়ের ক্ষেত্রে প্রদর্শিত পণ্য অবশ্যই দেশের ভিতরে 'রেডি টু শিপ' পর্যায়ে থাকতে হবে। সম্পূর্ণ মূল্য গ্রহণের পরবর্তী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ডেলিভারি করার মত অবস্থায় নেই এমন পণ্যের ক্ষেত্রে পণ্যমূল্যের ১০ শতাংশের বেশি অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে না। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এসক্রো সার্ভিস এর মাধ্যমে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে। বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শিত পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরবর্তী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পণ্য ডেলিভারিম্যান বা ডেলিভারি সংস্থার নিকট হস্তান্তর করতে হবে এবং ক্রেতাকে তা টেলিফোন, ই-মেইল বা এসএমএস এর মাধ্যমে জানাতে হবে।
টিপু মুনশি বলেন,পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হয়ে থাকলে ক্রেতা ও বিক্রেতা একই শহরে অবস্থান করলে ক্রয়াদেশ গ্রহণের পরবর্তী সর্বোচ্চ পাঁচ দিন এবং ভিন্ন শহরে বা গ্রামে অবস্থিত হলে সর্বোচ্চ দশ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি প্রদান করতে হবে। পচনশীল দ্রব্য দ্রুততম সময়ে ডেলিভারি দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ডেলিভারির সময় যাতে পণ্যের কোন ক্ষতি না হয় সেজন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যে কোন ধরনের ঘোষিত ডিসকাউন্ট বিক্রয় কাযক্রমের সাথে কার্যকর করতে হবে। ক্যাশব্যাক অফার মূল্য পরিশোধের পরবর্তি ৭২ ঘন্টার মধ্যে কার্যকর হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপার্সন মো. মফিজুল ইসলা, জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, ই-ক্যাবের সভাপতি শমি কায়সার প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

Share if you like