Loading...

ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও জটিলতা

| Updated: June 27, 2021 13:46:51


--প্রতীকি ছবি --প্রতীকি ছবি

সারাদেশের নন-এমপিওভুক্ত ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষকরা মানবেতর সাথে জীবনযাপন করছে। করোনা প্রভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে এই সমস্ত শিক্ষকরা। এসব শিক্ষকদের বেতন-ভাতা কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেয়ার ফলে কলেজ কর্তৃক তাদের কোন ধরনের সম্মানি ভাতা প্রদান করা হয় না। এই সমস্ত শিক্ষকদের গ্রামের চেয়ে শহরের এলাকায় বেশি কষ্টের দিন যাচ্ছে। যারা শহরের বাসা ভাড়া করে থাকতেন আজ তারা গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজ সমূহে ডিগ্রি পর্যায়ে বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত ও সমান যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক। শুধুমাত্র তৃতীয় শিক্ষক বলে আজ পর্যন্ত জনবল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানে ডিগ্রি দ্বিতীয় শিক্ষকের চেয়ে তৃতীয় শিক্ষকের রেজাল্ট ও মেধাবী তারা।

কিন্তুু ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পূর্বে যারা বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষদের তাঁদের এমপিওভুক্ত করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের পরে বিধি মোতাবেক নিয়োগ পাওয়া ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষকদের তালিকা পাঠাতে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে নির্দেশ প্রদান করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। আইনগত জটিলতা কারণে বাকি তৃতীয় শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না।

জানা যায়, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ একজন শিক্ষক ও ডিগ্রি (পাস) কোর্স চালু করতে দুই জন শিক্ষক সহ মোট তিনজন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়। প্রথম দুই জনকে এমপিওভুক্ত হলেও তৃতীয় শিক্ষক কে এমপিওভুক্ত করছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৯৯৮ সাল থেকে ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক বাধ্যতামূলক ভাবে নিয়োগ দিয়ে আসলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিমালায় পরস্পরবিরোধী তথ্য যুক্ত থাকায় বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর তৃতীয় শিক্ষকরা। দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতায় দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে এসব শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত ব্যাপারে বারবার আশ্বাস দিলে এখনো ও পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

তথ্য অনুযায়ী, কলেজে ডিগ্রি পাস কোর্স খোলার শর্ত হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নীতিমালায় বলেছে, স্নাতক (পাস) কোর্স চালুর জন্য বিষয়ভিত্তিক তিন জন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। অন্যান্য শর্তের পাশাপাশি নিয়ম মেনে তিন জন শিক্ষক নিয়োগ দিলেই ডিগ্রি (পাস) কোর্স চালুর অনুমতি দেয় এবং নবায়নের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম কঠোরভাবে মানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশ ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক পরিষদের (বাডিশিপ) সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক ও সাধারণ সম্পাদক রুমানা গত ১২/০২/২০১৯ ইং তারিখে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে তাদের এমপিওভুক্ত করার আবেদন করেন। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এক চিঠি পাঠিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে সু-স্পষ্ট মতামত ও প্রতিবেদন জানতে চেয়েছিল ।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মতামতে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্তি ডিগ্রি কলেজের জনবল কাঠামো-২০১০ প্রকাশের পরে শিক্ষা মন্ত্রণালায়ের গত ১১/১১/২০১৫ ইং তারিখের পরিপত্র যাহার স্বারক নং- ৩৭.০০.০০০০.০৭১.০৮.০০৮.০৫ (অংশ)-৯৪২ এবং গত ১৯/১০/২০১৬ ইং তারিখের পরিপত্র যাহার স্বারক নং- ৩৭.০০.০০০০.০৭৩.০৮.০০৬.১৬-৩৫৪ অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর পূর্বে যে সমস্ত ডিগ্রি কলেজ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলেন সেই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গভর্নিং বডি কর্তৃক ৩১/১২/২০১৬ ইং সাল পর্যন্ত নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবেন। সেই মোতাবেক সারা দেশের সকল ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষকদের তালিকা নিয়ে শুধু মাত্র প্রচলিত সরকারি বিধি মোতাবেক বৈধ ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত সারা দেশে ৮৪১ জন ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষকের প্রতিবেদন (মাউশির) মহা-পরিচালক প্রফেসর সৈয়দ ড. গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবেদন গত ২৭/০৫/২০১৯ ইং তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ মোমিনুর রশিদ আমিন বলেন, জনবল কাঠামোতে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত ব্যাপারে নির্দেশনা নেই। উচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত আসলেই তা সম্ভব। তাছাড়া বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে রয়েছে এবং ৮৪১ জন ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও ভূক্তি করনের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রনলয় বর্তমানে পজেটিভ অবস্থানে আছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস - চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, শিক্ষার মান রক্ষার জন্য ডিগ্রিতে প্রতি বিষয়ে তিন জন শিক্ষক প্রয়োজন। সে হিসেব বিবেচনায় এনে ডিগ্রি খোলার শর্ত হিসেবে বিষয়ভিত্তিক তিন জন শিক্ষকের কথা বলা হয়েছে এবং বর্তমানে ৮৪১ জন ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও ভুক্তি করনের বিষয়ে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় আশ্বস্ত করেছেন ।

Share if you like

Filter By Topic