Loading...

ডাস্ট এলার্জি: ঘরোয়া উপায়েই মিলতে পারে সমাধান

| Updated: February 26, 2022 15:01:06


ডাস্ট এলার্জি: ঘরোয়া উপায়েই মিলতে পারে সমাধান

২০২২ জানুয়ারি মাসের বৈশ্বিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স সম্বলিত এক গবেষণায় ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে বায়ুদূষিত শহর হিসেবে তালিকায় শীর্ষ স্থান পেয়েছে। এ দুষণমাত্রা ঢাকার মানুষের জন্য যেমন চরম অস্বাস্থ্যকর আবার তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ।

উন্নয়নশীল এই দেশে পরিবেশের দূষণমাত্রা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর দূষণের সাথে তাল মিলিয়ে বেড়ে চলেছে মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস, এলার্জি, চর্মরোগ জনিত নানা সমস্যা যার পেছনে মুখ্য কারণ হিসেবে কাজ করছে দূষিত বায়ু, পানি তথা পরিবেশ।

বায়ু দূষণ থেকে সৃষ্ট সবচেয়ে সাধারণ একটি সমস্যা ডাস্ট এলার্জি। বর্তমানে এই সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। এই সমস্যা সবসময় যে বংশগত তা নয়। যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারেন।

ডাস্ট এলার্জি কি এবং কেন হয়?

ডাস্ট এলার্জি মূলত ধুলো বালি জনিত একটি সমস্যা যেখানে প্রতিক্রিয়া হিসেবে কনজাংটিভাইটিস (চোখ ওঠা), এজমা(হাঁপানি), একজিমা( চামড়ার রোগ) দেখা যায়। ডাস্ট এলার্জির কারণ ডাস্ট মাইটিস নামে এক প্রকার অতি ক্ষুদ্র ধূলার পোকা।

ডাস্ট এলার্জির লক্ষণের মধ্যে রয়েছে - অনবরত হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চামড়ায় জ্বালা বা চুলকানি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। এছাড়াও শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, ঘুমে অসুবিধা হতে পারে।

ডাস্ট এলার্জি নির্ণয় ও নিরাময়ে কি করবেন?

ঠিক কি কারণে এলার্জির সংক্রমণ ঘটেছে তা নির্ণয় করা জরুরী। এরজন্য ত্বকে ছিদ্র করা হয়, যেখানে এলার্জিকে নিরুপণ করতে ডাস্ট মাইটসের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। এরপর কখন এলার্জির প্রতিক্রিয়া শুরু হয় তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। জায়গাটি ফুলে ওঠা বা লাল হওয়া পরিমাপ করা হয়। এছাড়াও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এলার্জি নির্দেশক এন্টিবডি শনাক্ত করা হয়।

ডাস্ট এলার্জির পেছনে আর্দ্র পরিবেশ বড় একটা কারণ হিসেবে কাজ করে। তাই পরিবেশ শুষ্ক এবং পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরী। বসতবাড়ি সব সময় পরিছন্ন রাখা জরুরী। ঘরের আসবাবপত্র, কার্পেট পরিষ্কার রাখা উচিত।

অনেকেই এলার্জি জনিত সমস্যা থেকে দ্রুত নিরাময় পেতে এন্টি এলার্জেন জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকেন। কিন্তু ঘরোয়া ভাবেও এ সমস্যার সমাধান করা যায়।

সবুজ শাক সবজি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আর এলার্জির সমস্যা কমাতে অনেক উপযোগী। এছাড়াও গ্রিন টি, ঘি, মধু, ইউক্যালিপটাস তেল এলার্জির সমস্যা কমিয়ে আনতে অনেক কাজ করে। প্রতিদিন এক চামচ করে ঘি খেলে এলার্জির সমস্যা কমে যায়।

ঠান্ডা লাগলে বা নাক বন্ধ থাকলে, পানিতে ইউক্যালিপটাস তেল এর কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে ভাপ নিলে উপকার পাওয়া যায়। আবার এলার্জির কারণে সৃষ্ট অস্বস্তি থেকেও রেহাই মেলে।

তবে সব কিছুর পরেও বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। করোনা থেকে বাঁচতে এখন মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। দেখা গেছে এতে করে এলার্জির সমস্যা অনেকেরই কমে গেছে।

অর্থী নবনীতা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ পড়াশোনা করছেন।

aurthynobonita@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic