ডলারের বিপরীতে দেশের মুদ্রা বিনিময় হার গত কয়েকদিনে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। আমদানি মূল্য পরিশোধের বাধ্যবাধকতা নিষ্পত্তির জন্যই মূলত টাকার মূল্য কমেছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দরপতনের ফলে এক বছরেরও বেশি সময় পর তিনদিনে আন্তঃ ব্যাংক মুদ্রা লেনদেন বাজারে টাকা প্রায় ৩০ পয়সার সমপরিমাণ মূল্য হারিয়েছে।
সোমবার বাজারে প্রতি ডলারে টাকার মান ছিল ৮৫.১৫, যা তার আগের দিন ছিল ৮৫.১০ টাকা। মঙ্গলবার টাকার মান ছিল ৮৪.৮০।
বাজার সংশ্লিষ্ট একজন এফই-কে বলেন "বুধবার বিকেল থেকে বাজারে ডলারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে টাকার অবমূল্যায়ন শুরু হয়েছে"।
তিনি আরও বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে আমদানি মূল্য পরিশোধ নিষ্পত্তি টাকার অবমূল্যায়নের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ।
'বিলস ফর কালেকশন' বা 'বিসি' সংগ্রহের জন্য প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫.২৫ টাকা যা আগের স্তরে ছিল ৮৫.২০ টাকা। আর মঙ্গলবার তা ছিল ৮৪.৯৫ টাকা।
ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের ডলার প্রতি ৮৪.২৫ টাকা বিনিময় হারে অর্থ প্রদান করেছে যা আগের দিন ছিল ৮৪.২০ টাকা। মঙ্গলবার তা ছিল ৮৩.৯৫ টাকা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে বাজারে পরোক্ষভাবে ডলার বিক্রি শুরু করেছে।
ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দু’টি বাণিজ্যিক ব্যাংককে পরীক্ষামূলক ভাবে গ্রিনব্যাক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।
বিবির একজন কর্মকর্তা জানান, আমরা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে তাদের প্রকৃত আমদানি-মূল্য পরিশোধ বাধ্যবাধকতা নিষ্পত্তিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখতে পারে।
এটি রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স প্রবাহেও সহায়তা করবে বলে এফইকে জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।
তবে তিনি নিম্ন বিনিময় হারের প্রভাবের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন যে, এমন দরপতনের ফলে আমদানি খরচও বাড়বে।
জুলাইয়ে অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির সাথে সাথে রপ্তানি আয়ের পতনের প্রবণতার মধ্যেই টাকার এই অবমূল্যায়ন ঘটেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় ১১ শতাংশেরও বেশি কমে প্রায় ৩.৪৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ৩.৯১ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সের প্রবাহ জুলাইয়ে প্রায় ২ শতাংশ কমে ১.৮৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে যা গত অর্থবছর একই সময়ে ছিল প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলার।
দেশের সামগ্রিক আমদানি মূল্যও চলতি বছরের জুন-জুলাই সময়ে ২০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬,০৬৮ কোটি ডলার। যা এক বছর আগেও ছিল প্রায় ৫,০৬৯ কোটি ডলার।
