ঠিকানাই পায়নি থানা, গ্রেপ্তার করে পিবিআই বলছে সে হত্যারও আসামি
এফই অনলাইন ডেস্ক| Published: February 05, 2022 10:38:30| Updated: February 05, 2022 17:27:52
সিরাজুল ইসলাম ওরফে মন্টু শেখ
ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় মাদকের এক মামলা থেকে দুই আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছিল ঢাকার চকবাজার থানা পুলিশ। তদন্তে নেমে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানতে পেরেছে, তাদের একজন হত্যা মামলারও আসামি।খবরবিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকমের।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন সিরাজুল ইসলাম ওরফে মন্টু শেখ (৪০) এবং মো. সালাম (৩১)। মন্টুকে বৃহস্পতিবার বিকালে এবং সালামকে গত ২৫ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে মন্টু শেখ একটি মাদক মামলার দণ্ডিত আসামি। তার নামে একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।
গতবছর ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চকবাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে৩৭৫ বোতল ফেনসিডিলসহ চান মিয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সে সময় দুইজন পালিয়ে যায়। পরে চান মিয়া জানায়, ওই দুই জনের নাম সিরাজুল ইসলাম মন্টু ও মো. সালাম বলে জানায়।
ওই ঘটনায় চকবাজার থানায় মামলা করার পর থানা পুলিশ দুই মাস ছয়দিন তদন্ত করে। কিন্তু মন্টু ও সালামের ঠিকানা না পাওয়ায় কথা জানিয়ে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে গত বছরের ১ এপ্রিল শুধু চান মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আদালত সেই অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে ওই বছরের ৩ মে মামলাটি পুনরায় তদন্ত করতে পিবিআইকে দায়িত্ব দেয়।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রায় সাড়ে আট মাস তদন্ত করে গত ২৫ জানুয়ারি সালামকে গ্রেপ্তার করেন তারা। পরে তার দেওয়া তথ্যে আট দিন পর মন্টুকে শ্যামপুর রেল লাইন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মন্টু শেখ অত্যন্ত ধূর্ত। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদকের মামলা রয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার একটি মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি সে।
রাজধানীর সবুজবাগ থানার একটি হত্যা মামলাতেও মন্টুর নাম আছে জানিয়ে পিবিআিই কর্মকর্তা বলেন, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একজন চালককে হত্যা করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি মন্টু শেখ। তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
নাটোর, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, রাজধানীর খিলগাঁও, শ্যামপুরসহ বিভিন্নথানায় মন্টুর বিরুদ্ধে মাদকের সাতটি মামলা রয়েছে। দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের হাতেও তিনি একবার ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
মন্টুর বাড়ি ফরিদপুর জেলায় আলফাডাঙ্গা থানা এলাকায়। তবে দিনাজপুরে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তিনি নিজের বাড়ি নড়াইলে বলে পুলিশকে জানিয়েছিলেন। আর এখন তিনি থাকেন নারায়ণগঞ্জে।
ঠিকানা না থাকায় এ দুজনকে গ্রেপ্তার করতে পিবিআইয়ের এসআই আশরাফুল ইসলামকে আট মাস ধরে নানা কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর।