Loading...

টাকা জমানোর কায়দা–কৌশল

| Updated: March 12, 2021 18:22:02


টাকা জমানোর কায়দা–কৌশল

বাক্যটি পড়ে আপনার মনে নিশ্চিত কোটি কোটি ‘হ্যাঁ’ এর উদয় হচ্ছে। হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ আমরা সবাই-ই চাই, ভবিষ্যৎ প্রয়োজনে আমাদের উপার্জনের কিছুটা অংশ অন্তত জমা থাকুক। কিন্তু, দেদারসে করা খরচাপাতি আমাদের এই চাওয়াটাকে অনেক সময় চাওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ করে রাখে। এ প্রসঙ্গে একটি চমৎকার উক্তির কথা বলতেই হয়—‘আমরা সবাই স্বর্গে যেতে চাই, অথচ আমরা কেউই মরতে চাই না’। অর্থ জমানোর ক্ষেত্রেও উক্তিটি বেশ খাটে বৈকি। আপনি পরিকল্পনা ছাড়া ব্যয় করে, সঞ্চয়ের খাতা উন্নয়নের কথা চিন্তা করে গেলে, তা মৃত্যু ছাড়া স্বর্গ প্রাপ্তির মতোই। আজকের লেখায় সঞ্চয় বর্ধনে সহায়ক এমন কিছু কৌশল নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করব।

শতকরা হিসাব

অর্থ সঞ্চয়ের চিন্তা মাথায় আসার সঙ্গে সঙ্গে, আপনার উপার্জন এবং খরচের বিষয়াদি একটি খাতায় লিখে ফেলুন। পঞ্চাশ-বিশ-তিরিশ এই শতকরা হিসেবে নিজেকে পরিচালনার চেষ্টা করুন। অর্থাৎ, পঞ্চাশ শতাংশ টাকা খুব প্রয়োজনীয় দরকারে, বিশ শতাংশ টাকা সঞ্চয়ে, বাদবাকি তিরিশ শতাংশ টাকা নিজের ব্যক্তিগত চাহিদায় খরচ করা।

সরাসরি সঞ্চয়

অনেক সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এমন ব্যবস্থা চালু থাকে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে কর্মচারীদের বেতনের টাকা থেকে কিছু অংশ সরাসরি সঞ্চয়ের খাতায় চলে যায়। আপনি যদি এমন প্রতিষ্ঠানের কেউ হয়ে থাকেন, তবে অর্থ সঞ্চয়ের জন্য এই পদ্ধতিটিকে কাজে লাগাতে পারেন।

মাসিক পরিকল্পনা

আমাদের চাহিদার শেষ নেই। তবে এমন কিছু চাহিদা থাকে; যা নিষ্প্রয়োজন হওয়া সত্ত্বেও কিছু কিছু মুহূর্তে খুব প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়। এই অদরকারি অথচ দরকারি মনে হওয়া ব্যাপারগুলোর জন্য প্রয়োজন একটু দীর্ঘ পরিকল্পনা।

যেমন, ধরুন আপনি খুব ব্যয়বহুল একটা কিছু কেনার কথা ভাবছেন, তবে কি আপনি চট করে সেটা কিনে ফেলবেন? না, আপনার উচিত অন্তত ৩০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা, এই সময় শেষ হওয়ার পরও যদি আপনার মনে হয়, ব্যয়বহুল সে জিনিসটি সত্যিকার অর্থেই আপনার প্রয়োজন, কেবলমাত্র তখনই সেটি ক্রয় করুন। এ উপায়ে অনেক সময় আপনার আর্থিক অংশের খুব বড়সড় একটি পরিমাণ সঞ্চয় হতে পারে।

পণ্য ক্রয়ে তালিকা

মাসের শুরুতেই আপনার প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর একটি তালিকা করে ফেলুন। সে অনুযায়ী খরচ করুন। অনেক সময় দেখা যায়, আমরা অনেকেই মাসের প্রায় প্রতিদিনই বাজারে যাই, বিষয়টি বরং আমাদের অর্থ সঞ্চয়কে বাধাগ্রস্ত করে।

ক্যালকুলেটর ব্যবহার

যদি মনে হয় আপনার অর্থ আপনার অজান্তেই পকেট পাল্টে নেয়, তবে সে ক্ষেত্রে আপনি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন। ক্যালকুলেটরে প্রতিদিনকার খরচের সমষ্টি নির্ণয় করে; প্রাপ্ত সমষ্টি উপার্জন করতে আপনার কেমন সময় ব্যয় হয়েছিল, বিষয়টি অনুধাবনের চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার মধ্যে একটি বাস্তবিক ধারণা তৈরি হবে, যা অর্থ সঞ্চয়ে খুব ভালো সহায়ক।

বিনামূল্যে বিনোদন

সুন্দর জীবনের প্রয়োজনে বিনোদন অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু এই বিনোদনের কল্যাণে যদি কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ হয়, তবে দিন শেষে তা বরং দুশ্চিন্তার কারণ হয়েই দাঁড়ায়। তবে কি আমরা বিনোদন থেকে নিজেদের সরিয়ে নেব? একদমই না। তবে আমরা চাইলেই এমন কিছু মাধ্যমকে বেছে নিতে পারি, যা টাকা ছাড়াই আমাদের বিনোদন দিতে পারে।

যেমন আমরা চাইলেই ছুটির দিনগুলোতে লাইব্রেরিতে যেতে পারি। লাইব্রেরি পরিবারের সব সদস্যদের তথা ছোট থেকে বড়, সবার জন্যই খুব ভালো বিনোদনের জায়গা। কিংবা আমরা প্রাকৃতিক নানাবিধ পরিবেশে নিজেদের সময়টুকু খরচ করে, একদম বিনা মূল্যেই দুর্দান্ত বিনোদন পেতে পারি।

রোজকার কৌশল

প্রতিদিন আমাদের অনেক ছোটখাটো খরচাপাতি প্রয়োজন হতেই পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আমরা একটি কৌশল অবলম্বন করে অর্থ ব্যয় কমিয়ে দিতে পারি। যেমন, এ মুহূর্তে যা দরকার বলে মনে হচ্ছে তা সত্যিকার অর্থেই দরকারি কি না, সে জন্য একদিন সময় নেওয়া। এর সঙ্গে পূর্বোল্লিখিত উপায়টির মিল আছে, তবে পার্থক্য শুধু সময়ের ক্ষেত্রে। আগেরটি ছিল দীর্ঘকালীন, আর এটি প্রতিদিনের জন্য।

রাত্রিকালীন খরচ

এমন অনেকেই আছেন, যারা ভিন্ন স্বাদের প্রয়োজনে রাতের ভোজনে হরহামেশাই রেস্টুরেন্টে যান। বিষয়টি বরং খরচের পাল্লাকেই ভারী করে। এ ক্ষেত্রে ঘরোয়া রান্না-বান্নায় পরিবর্তন এনেও সুস্বাদু একটি ভোজন আসর জমিয়ে তোলা সম্ভব।

ডিসকাউন্ট মনোযোগী

বিভিন্ন সময় হাজার হাজার কোম্পানি তাদের প্রচারণার সুবিধার্থে খুব ভালো মানের পণ্যের ওপর ডিসকাউন্ট দিয়ে থাকে। এই ডিসকাউন্টে মনোযোগ দিয়ে আপনি আপনার অনেকগুলো টাকা বাঁচানোর পাশাপাশি সঞ্চয়ের দিকটাকেও স্বাস্থ্যবান করে তুলতে পারেন।

অর্থ উপার্জন

সময় নষ্ট না করে সময়কে উর্বর করে তুলুন। আপনার ভালো লাগার জায়গাগুলোকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে আর একটু বেশি অর্থ উপার্জন করা যায়, সে চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। অর্থ উপার্জনের মাত্রা বাড়তে থাকলে খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনার ভেতর সঞ্চয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হতে থাকবে।

সঞ্জয় দত্ত বর্তমানে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতকে পড়াশোনা করছেন।

ইমেইল-sonjoy. bd. golpokar@gmail. com

Share if you like

Filter By Topic