বরগুনায় জ্বলন্ত লঞ্চ থেকে লাফ দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন পাথরঘাটার ইউএনও হোসাইন মোহাম্মদ আল মুজাহিদ।
প্রাণে রক্ষা পেলেও লঞ্চের রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে তার স্ত্রী উম্মুল ওয়ারার পা ভেঙে গেছে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা থেকে বরগুনা পৌঁছানোর পর এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লেগে অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়। দগ্ধ ও আহত হন আরও অন্তত ৭২ জন।
ইউএনও মুজাহিদ বলেন, তিনি ওই লঞ্চের নীলগিরি নামে একটা ভিআইপি কেবিনে ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী উম্মুল ওয়ারা।
তারা ঢাকা থেকে ফিরছিলেন জানিয়ে ইউএনও বলেন, ঢাকায় দাপ্তরিক কাজ সেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে লঞ্চে ওঠেন। রাত ৩টার দিকে লঞ্চের অন্য যাত্রীদের চিৎকারে ঘুম ভাঙে।
“তখন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যাই। তড়িঘড়ি করে রুম থেকে বের হয়ে লঞ্চের সামনে যাই। সেখানে শতাধিক যাত্রীর ভিড় ছিল। লঞ্চটি এ সময় সুগন্ধা নদীর মাঝখানে ছিল। অনেককেই নদীতে লাফিয়ে পড়তে দেখা গেছে।”
ইউএনও বলেন, “আমরাও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন লঞ্চ থেকে লাফ দিই। কোথায় পড়ছি তা জানি না। তখন তৃতীয় তলা থেকে দোতালায় পড়ে যাই। এ সময় উম্মুল ওয়ারার ডান পা ভেঙে যায়।”
পরে স্থানীয়রা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ইউএনও বলেন, “বৃদ্ধ ও শিশুরাই বেশি হতাহত হয়েছে। এছাড়া অনেক নারীও নদীতে লাফিয়ে পড়েছেন। তারা তীরে উঠতে পেরেছেন কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছি।”
যারা ঘুমিয়ে ছিলেন এবং কেবিনে ছিলেন তারাই বেশি হতাহত হয়েছেন বলে জানান ইউএনও হোসাইন মোহাম্মদ আল মুজাহিদ।
