প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম দিকে যে আশা দেখিয়েছিল তা পরেও বজায় রয়েছে; এতে মাস শেষে প্রবাসী আয় বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন বা ২২০ কোটি ডলার, যা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, এসময়ে আগের অর্থবছরের একই মাস জুলাইয়ের চেয়ে রেমিটেন্স বেড়েছে ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে গত বছরের জুলাইয়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।
জুলাই শেষে রেমিটেন্সের পরিমাণ আগের মাস জুনের চেয়ে ১৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। ওই মাসে এসেছিল ১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে ২০২০ সালের জুলাইতে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছিল।
প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের নেতিবাচক অবস্থার পর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি রেমিটেন্সে খারাপ সময় কাটবে বলে আশা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বিডিনিউজকে বলেন, প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠাতে প্রণোদনা বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সরকার বিভিন্ন নীতি সহায়তা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও প্রবাসীদের বৈধভাবে রেমিটেন্স পাঠাতে উৎসাহ দিয়ে আসছে। আগের চেয়ে বেশি দর পাওয়ায় প্রবাসীরা উৎসাহী হয়ে জুলাই মাসে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন।
গত ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স আগের বছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১০৩ কোটি ডলার; প্রবৃদ্ধি হয় ঋণাত্বক ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। এর আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিটেন্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার; প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ।
সরবরাহ সংকটে সম্প্রতি ডলারের দাম বেশ কয়েক মাস থেকেই বাড়ছে। ব্যাংকিং চ্যানেলের পাশাপাশি খোলা বাজারেও ডলারের দাম বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ডলার সংগ্রহে ব্যাংকগুলো বিদেশের এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে বেশি দরে প্রধান এ বৈদেশিক মুদ্রা কিনছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে।
গত ৩০ মে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের ম্যানেজড ফ্লোটিং রেট নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারের উপর ছেড়ে দেয়।
এরপর থেকে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়তে থাকে। এসময় ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে ১০০ টাকার উপরে কিনে নেয়। কোনো কোনো ব্যাংক ১০৭ টাকা দিয়েও ডলার কিনেছে গত সপ্তাহে।
এতে আগের চেয়ে বেশি দাম পাওয়ায় প্রবাসীরাও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাতে শুরু করেছেন বেশি পরিমাণে।
চলতি জুলাইয়ের শুরুর দিক থেকে রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ বাড়ছিল। প্রথম ২১ দিনেই জুনের পুরো মাসের আয় ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ২১ জুলাই পর্যন্ত দৈনিক গড়ে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। মাস শেষে তা দাঁড়ায় দৈনিক গড়ে ৭ কোটিতে।